ভারতের চন্দ্রাভিযানের প্রদীপ এখনো জ্বলছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া চন্দ্রযান-২-এর ল্যান্ডার বিক্রমের খোঁজ মিলেছে। ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) জানিয়েছে, চাঁদের পৃষ্ঠে বিক্রমের খোঁজ মিলেছে। তবে এখনো অরবিটারে বিক্রম থেকে কোনো সংকেত আসেনি। সন্ধান পাওয়ার পর আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।
ইসরো চেয়ারম্যান কে শিভান জানিয়েছিলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া ল্যান্ডার খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু ৩৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যেই খোঁজ পাওয়া গেছে। এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়েছে, গতকাল রবিবার দুপুরে অরবিটারের পাঠানো ছবি মারফত হারিয়ে যাওয়া বিক্রমের খোঁজ পাওয়া যায়। ল্যান্ডারের একটি থার্মাল ইমেজ সংগ্রহ করেছে অরবিটার। বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগের সব রকম চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অক্ষত অবস্থায় রয়েছে এটি। তবে যে কাজের জন্য চাঁদের মাটিতে পাঠানো হয়েছে, বিক্রম তা করতে সমর্থ হবে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও এখনো কোনো ধারণা করা যাচ্ছে না।
শুক্রবার মধ্যরাতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামার কথা ছিল ল্যান্ডার বিক্রমের। অপারেশনের একবারে শেষ পর্যায়ে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দূরে থাকা অবস্থায় বিক্রমের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যে কারণে চন্দ্রাভিযানের সফলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে নতুন করে খোঁজ পাওয়ায় ভারতীয় বিজ্ঞানীরা আশান্বিত হয়ে উঠছেন।
এই অভিযান পরিচালনা করতে ভারতের ব্যয় হয়েছে ১ হাজার কোটি রুপি। এই অর্থ এর আগে পরিচালিত যেকোনো দেশের চন্দ্রাভিযানের খরচের তুলনায় বহুগুণে কম। ইসরো বলছে, একই ধরনের অভিযানে মার্কিন সংস্থা নাসার ২০ গুণ বেশি অর্থ খরচ হয়ে থাকে। বিক্রম ভালোভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করলেই যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পরেই স্থান হতো ভারতের। পাশাপাশি প্রথমবারেই চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণের রেকর্ডও দখলে আসত।
প্রসঙ্গত, জিএসএলভি মার্ক-৩ রকেটে চেপে ২২ জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে যাত্রা শুরু করে চন্দ্রযান-২। এটি ইসরোর সবচেয়ে শক্তিশালী ও দীর্ঘ রকেট। প্রথমে ১৫ জুলাই সেটি উেক্ষপণের কথা ছিল, তবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সেটি পিছিয়ে যায়।
ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী নাসা
মহাকাশ গবেষণায় ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। শনিবার টুইট বার্তায় সংস্থাটি বলেছে, ‘মহাকাশ খুবই চ্যালেঞ্জিং জায়গা। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ইসরোর চন্দ্রযান-২ অবতরণ প্রচেষ্টার প্রশংসা করছি। আপনারা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। আশা করি, ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণায় একসঙ্গে কাজ করা হবে।’ উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ভারতের চন্দ্রাভিযান-২ শতভাগ সফল না হলেও দেশটির অগ্রগতিতে আকৃষ্ট হয়েছে বিশ্ব। নাসার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৬০ বছরে চন্দ্রাভিযানের ৪০ শতাংশই ব্যর্থ হয়েছে। ইসরোর দাবি, তাদের অভিযান ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছে।