¬প্রথম যকৃত্ প্রতিস্থাপন করা সিরাতুল মারা গেলেন ডেঙ্গুতে

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) মারা গেছেন সিরাতুল ইসলাম শুভ। দেড় মাস আগে এই হাসপাতালেই দেশের প্রথম যকৃত্ প্রতিস্থাপন হয়েছিল এই তরুণের। বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, ঈদের দিন সিরাতুল এই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিল ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে। সে ডেঙ্গুর শক সিনড্রোমে চলে যায়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর ব্রেনে ইনফেকশনজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।

লিভার সিরোসিতে আক্রান্ত ২০ বছর বয়সী সিরাতুলের যকৃত্ প্রতিস্থাপনে গত জুনের শেষ দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অস্ত্রোপচার হয়েছিল। বিএসএমএমইউতে সেটাই ছিল প্রথম যকৃত্ প্রতিস্থাপন, ১৮ ঘণ্টার ঐ অস্ত্রোপচারে সহযোগিতা করেছিল ভারতের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ডা. বালাচন্দ্র মেননসহ তার চিকিত্সক দল। সন্তানকে সারিয়ে তুলতে সিরাতুলের মা রোকসানা বেগম তার যকৃতের অংশ দিয়েছিলেন, যা সফলভাবে সংযোজনের দাবি করেছিলেন চিকিত্সকরা।            এবার বর্ষার শুরুতে জুন মাসেই বাংলাদেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। জুলাই ও আগস্টে তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু আগস্টেই আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

এদিকে রাজধানীসহ সারাদেশের হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা একদিন বাড়ে তো আরেকদিন কমে। গত এক সপ্তাহ ধরে এরকম অবস্থা বিরাজ করছে। ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ৩১৪ এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ৪৭৭ জনসহ ৭৬১ জন আক্রান্ত হন। তবে চিকিত্সা নিয়ে বাড়ি ফেরা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এ পর্যন্ত চিকিত্সা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬ হাজার ৫১৪ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছরের শুরু থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হয়েছেন ৭৬ হাজার ৫১৪ জন। আর চিকিত্সা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৩ হাজার ৯১ জন।

এদিকে ঢাকা ও খুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গতকাল দুই জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নাসিমা বেগম (৪৮) নামে এক গৃহবধূ এবং খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশিকুজ্জামান (৩৭) নামে একজনের  মৃত্যু হয়েছে।