উপজেলায় নৌকার বিরোধিতা

শোকজ নোটিশের চিঠি প্রস্তুত, স্বাক্ষর বাকি

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতাকারী নোতাদের শস্তির মুখোমুখি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৫০ নেতার জন্য আলাদা আলাদা শোকজ নোটিশের চিঠি তৈরি করা হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করলে যেকোনো মূহুর্তে তা পাঠানো হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল থেকে শোকজ নোটিশ পাঠানো শুরু হবে বলে শনিবার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চিঠিগুলোতে স্বাক্ষর শেষ করতে পারেননি তিনি বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা গতকাল ছাত্রলীগ নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন। এ কারণে ঘোষণা থাকলেও উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী ও তাদের মদদদাতাদের কাছে শোকজ নোটিশ পাঠানো সম্ভব হয়নি। শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ড ও অযোগ্যতার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়                 কমিটি ভেঙে দেওয়ার আলোচনার মধ্যে গতকাল রাতে গণভবনে যান ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। জানা গেছে, তারা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন, সালাম দেন। কিন্তু কোন কথা হয়নি। পরে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গণভবন থেকে বেরিয়ে যান। প্রসঙ্গত, ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের ১১ ও ১২ মে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই শেষ হয় সম্মেলন। তার আড়াই মাস পর গত বছরের ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছর মেয়াদী আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এক বছর পর গত ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে তা পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন এতে স্থান না পাওয়া কিংবা প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, বিবাহিত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ নানা অভিযোগবিদ্ধ অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বঞ্চিত করা হয়েছে অনেক ত্যাগী নেতাকে। এনিয়ে বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে মারামারিও বাঁধে কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের। এরপর কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে আশ্বাসে পিছু হটে বিক্ষুব্ধরা।

এদিকে শুরু থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা অভিযোগ করে আসছেন, জেলা নেতৃবৃন্দ টাকার কাছে বিক্রি হয়ে ত্যাগী ও জনপ্রিয় প্রার্থীদের নাম কেন্দ্রে পাঠাননি। স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অজনপ্রিয় ও হাইব্রিড নেতাদের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। তাই তারা বিদ্রোহী হয়েছেন। নির্বাচনের পর শতাধিক উপজেলায় নৌকার প্রার্থী পরাজিত হলে বিদ্রোহীদের এমন অভিযোগ আরও জোড়ালো হয়। বিদ্রোহী প্রার্থীরা বলছেন, তাদের প্রতি কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলে তা সঠিক হবে না। নানা লবিং ও গ্রুপিংয়ের কারণে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন তারা। দলীয় নেতাকর্মী ও জনসাধারণের জনপ্রিয়তা কার কতটুকু তা ওই নির্বাচনে প্রমাণ হয়ে গেছে।

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন- ঢাকার পার্শ্ববর্তী এমন এক উপজেলার চেয়ারম্যান জানান, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি একটি পরিবারের হতে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছিলো।  দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিলো। মানুষের চাওয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রার্থী হয়েছিলাম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে ভূল মেসেজ দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। যা নির্বাচনে জয়লাভ করার মাধ্যমে প্রমান হয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একটি সূত্র বলছে, সব অভিযোগের ব্যাপারে একই ধরণের শাস্তি প্রযোজ্য হবে না। তাদের ব্যাপারে ২/৩ ধরণের শাস্তি দেয়া হতে পারে। অভিযোগ ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত রিপোর্ট রয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এসব রিপোর্টও পর্যালোচনা করা হবে। যারা নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছে তাদের একটি অংশকে সরাসরি বহিস্কার করা হতে পারে। মদদদাতাসহ যাদের অপরাধ তুলনামূলক কম তাদেরকে পর্যবেক্ষনে রাখা হবে। তাছাড়া কোনো এমপি-মন্ত্রী সরাসরি সংগঠনের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো কাজ করার প্রমান পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে তাদেরকে আর মনোনয়ন দেয়া হবে না। পাশাপাশি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। ইতিপূর্বে বিভিন্ন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সতর্ক করলেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি আওয়ামী লীগ। এই প্রথম দলের বিশাল সংখ্যক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলটির উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ওইসব নেতাদের শোকজের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত ২৮ জুলাই থেকে বিদ্রোহীদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হবে ঘোষণা দিয়েছিলেন।