সিরাজদিখানে রিসোর্ট থেকে ৭ নারীসহ ১৮ জন আটক

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক ও অসামাজিক কাজে জড়িত থাকায় সাত নারী, আট পুরুষ এবং রিসোর্টের তিন জন স্টাফকে আটক করেছে সিরাজদিখান  থানাপুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ইছাপুরা ইউনিয়নের চালতাতলা নামক এলাকায় এমজে হলিডে রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে এই ১৮ জনকে আটক করা হয়। তবে এ সময় এমজে হলিডের মালিক ও ম্যানেজারকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত দুদিন আগে এমজে হলিডে রিসোর্টে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করে দুই পুরুষ। এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়। ঐ মামলায় রিসোর্টের ম্যানেজার আবুল হাসান লিমনকে (৩২) আসামি করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে ম্যানেজার আবুল হাসানকে ধরতে রিসোর্টে অভিযান চালান সিরাজদিখান (সার্কেল) সিনিয়র এএসপি মো. রাজিবুল ইসলাম ও সিরাজদিখান থানার ওসি মো. ফরিদউদ্দিন। কিন্তু অভিযানের সময় ১৫ জন নারী-পুরুষকে নাচ-গানসহ মদ্যপ অবস্থায় অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকতে দেখা যায়। পরে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। আটকের সময় তাদের কাছে কনডমসহ নানা যৌন উত্তেজক দ্রব্যাদি পাওয়া যায়। আটক করা হয় রিসোর্টের তিন স্টাফকে।

ইছাপুরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন হাওলাদার জানান, এই রিসোর্ট নিয়ে অনেক বিপদে ছিলাম। এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত আমার কাছে অভিযোগ করেছে, সেখানে দিন-রাত গান-বাজনা চলত, আর ছেলেমেয়েরা অসামাজিক কাজ করত। শুক্রবার রাতে পুলিশ অনেককে আটক করেছে। আমি চাই রিসোর্টটি বন্ধ করে দেওয়া হোক।

সিরাজদিখান থানার ওসি মো. ফরিদউদ্দিন জানান, মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার জশলং গ্রামের এক গৃহবধূর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার গভীর রাতে এমজে হলিডে রিসোর্টে অভিযান চালানো হয়। আটক নারী-পুরুষ ঢাকা, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর বাসিন্দা। তাদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।