টঙ্গীর সরকারি হাসপাতাল শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী তৌহিদুল ইসলাম হূদয় ওষুধ কোম্পানির তিন বিক্রয় প্রতিনিধিকে গতকাল রবিবার দুপুরে পিটিয়ে জখম করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কমর উদ্দিনের অনুমতিক্রমে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন—রবিবার ও বুধবার ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা দুপুর ১২টার পর ডাক্তারকে ভিজিট করতে পারবেন। সে হিসেবে গতকাল রবিবার বিক্রয় প্রতিনিধিরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডাক্তারের চেম্বারের পাশে অপেক্ষা করতে থাকেন। এসময় হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী হূদয় ওয়ার্ড মাস্টার বলে নিজের পরিচয় দিয়ে প্রতিনিধিদের হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। আর বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের নিষেধ আছে আপনাদের হাসপাতালে প্রবেশে’। প্রতিনিধিরা তার কথা না শুনে অপেক্ষা করতে থাকলে হূদয় ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে হূদয় ও তার অপর দুই সহযোগী মিলে ওষুধ কোম্পানি হেলথ কেয়ারের আরিফুল ইসলাম, জুবায়েদুল ইসলাম এবং রেডিয়েন্ট ওষুধ কোম্পানির আদম শফিউল্লাহকে কিল, ঘুষি, চড়থাপ্পর মেরে জখম করেন এবং প্রতিনিধিদের হাতে থাকা ব্যাগ ছুড়ে ফেলে দেন। পরে হাসপাতালে উপস্থিত লোকজন হূদয়কে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের অভিযোগ, আউটসোর্সিং কর্মচারী হূদয় হাসপাতাল ভিজিট করতে হলে ডা. কমর উদ্দিন ও হূদয়কে নিয়মিত টাকা দিতে হবে বলে দাবি করে। এতে রাজি না হওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
একটি বিশেষ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কমর উদ্দিন ও আরএমও ডা. পারভেজকে ম্যানেজ করে হূদয় এক জন আউটসোর্সিং কর্মচারী থেকে রাতারাতি ওয়ার্ড মাস্টার বনে যান। এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. পারভেজ হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না, তবে ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের গায়ে হাত তোলার বিষয়টি দুঃখজনক। তৌহিদুল ইসলাম হূদয়কে ওয়ার্ড মাস্টার হিসেবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দিয়েছেন। বাকিটা ওনার কাছ থেকে জেনে নিন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কমর উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব আমার। বিষয়টি আমি দেখব।