ভোমরা স্থলবন্দরে দুর্নীতির অভিযোগ

সাতক্ষীরার ভোমরাস্থল বন্দরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোমরা কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব এইচ.এম আরাফাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম উপস্থিত ছিলেন। সেখানে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অন্যান্য স্থলবন্দরের ন্যায় ভোমরা স্থলবন্দরেও সরকার পণ্য খালাসের জন্য একজন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শ্রমিক সরবরাহ করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করে থাকে। এ বন্দরের ওই নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিক সরবরাহের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতি মেট্রিকটনে ৫৪ টাকা ৬০ পয়সা হারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিল নিয়ে থাকে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কোন শ্রমিক সরবরাহ না করে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বাহির থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করে প্রতি ট্রাকে দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুই'শ টাকা দিয়ে পণ্য খালাস করতে বাধ্য হচ্ছে। এরফলে আমদানি কারকদের দুইবার শ্রমিকদের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। যা বাংলাদেশের অন্য কোন বন্দরে পরিলক্ষিত হয়না। যার কারণে খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

তারা বলেন, এ বন্দরে সম্পূর্ণ আলাদা আদেশ জারি করে নাইট চার্জ আদায় করা হচ্ছে যা বিধি সম্মত নয়। ট্যারিফ শিডিউলে নাইট চার্জ দেয়ার বিধান না থাকলেও নাইট চার্জের নামে টাকা আদায় করে তা ৫০/৫৫ ভাগে ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা। এছাড়া এ বন্দরে আইন করে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সকল চার্জের উপর প্রতি বছর ৫% হারে ট্যারিফ বৃদ্ধি করা হয়। যা একই দেশে দ্বৈত আইন। তারা এ সময় ভোমরা স্থলবন্দরের উপ-পরিচালকের প্রত্যাহার ও বিচার দাবী করে শ্রমিক ঠিকাদার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সুকৌশল দুর্নীতি সম্পর্কে উক্ত দপ্তরের মন্ত্রী, সচিবসহ সকলের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান আশু, নাসিম ফারুক খান মিঠু, সহ-সভাপতি রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এসএস