আলোচনার দরজা ইরানের জন্য খোলা :ফ্রান্স

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ ইয়েবস লি দ্রিয়ান ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বলেছেন, তেহরান যা করছে তা নেতিবাচক, তবে এখনো আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। ইরানের প্রতি যুগান্তকারী পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানকে অবশ্যই তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ বন্ধ করতে হবে। এভাবে ইরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এগিয়ে নিয়ে যায় তাহলে তা বিশ্বের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। আমরা আশা করছি, ইরান তার এসব কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে ফিরিয়ে আনবে। এ ঘটনার এক দিন আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু করেছে। সেদিকেই সরাসরি ইঙ্গিত করে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখনো সময় আছে, ইরান বিশ্বশান্তির স্বার্থে সঠিক পথেই হাঁটবে।  তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে চুক্তিটিকে অগ্রাহ্য করার কাজ শুরু করে। এরপরে ইরানও আস্তে আস্তে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে থাকে। তেহরান তখন জানিয়ে দেয়, তারা চুক্তির কিছু অংশ থেকে সরে এসে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সেন্ট্রিফিউজ উন্নত করবে। লি দ্রিয়ান বলেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করে। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও ছিল। যুক্তরাষ্ট্র এখন বলছে, তারা আর চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয়। তিনি আরো বলেন, চুক্তির শর্ত মানার ব্যাপারে তেহরানের কোনো অগ্রগতি না দেখার কারণ দেখিয়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর আরো কঠোর অবরোধ আরোপ শুরু করে।

লি দ্রিয়ান বলেন, এর ফল কারো জন্যই ভালো নয়। আমেরিকার বাজে সিদ্ধান্তের জবাবে ইরানও খারাপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। এর ফলে কেবল উত্তেজনাই বাড়বে। ২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন (পি-ফাইভ) ও জার্মানি ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর নভেম্বরে থেকে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন।