ধর্মীয় উগ্রবাদের শিকার ঝারখন্ডের আলোচিত তরুণ তাবরেজ আনসারির (২৪) হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১১ আসামির সবাইকে খুনের অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, গণপিটুনি নয়, হার্ট অ্যাটাকে তাবরেজের মৃত্যু ঘটেছে।
এ বিষয়ে ঝাড়খন্ডের পুলিশপ্রধান কার্তিক এস বলেন, 'মেডিক্যাল রিপোর্টে খুনের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন তো দূরে থাক অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলাও চালাতে পারবো না।'
পুলিশ সূত্রমতে, তাবরেজ হত্যা মামলায় এর আগেও ময়নাতদন্ত চালানো হয়। সেই রিপোর্টেও মৃত্যুর কারণ একই বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে কার্তিক জানান, প্রথমবার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার তারা আরও উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে মতামত নেন এবং তারাও সেই একই মত দেন।
তাবরেজের পরিবারের অভিযোগ, পিটিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ীই তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন তাবরেজ আনসারিকে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ভারতের ঝারখন্ডের সরাইকেলা খারসাওন এলাকায় গণপিটুনি দেওয়া হয়। কয়েকঘণ্টা ধরে তাকে মারধর করা হয়। মারধরের সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশ ও দেশের বাইরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: গরু দত্তক দিতে চায় ভারত
ভিডিওতে দেখা যায়, তাবরেজকে বেঁধে রেখে মেরে রক্তাক্ত করা হচ্ছে এবং উপস্থিত একদল লোক তাকে 'জয় শ্রী রাম' বলতে বাধ্য করছে। ২২ জুন হাসপাতালে মারা যান তাবরেজ আনসারি। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে একজন আত্মসমর্পণ করেন।
ইত্তেফাক/মিশু/নূহু/