ব্রাহ্মণেরা সমাজে শ্রেষ্ঠ বলে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। নিরপেক্ষতার শপথ নিয়ে যিনি দেশটির সাংবিধানিক পদে বসেছেন, তিনি কিভাবে এমন কথা বলতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেইসঙ্গে ওমকে স্পিকারের পদ থেকে সরানোর দাবিও উঠেছে।
তবে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, সঙ্ঘ পরিবার ও বিজেপির সুরে কথা বললে এখন সাত খুন মাফ হয়ে যায়। ওমও ছাড় পেয়ে যেতে পারেন। কারণ বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের কাছে তাদের আদর্শই শেষ। সংবিধান তাদের কাছে মূল্যহীন।
ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে জানা যায়, গত রবিবার রাজস্থানের কোটায় অখিল ভারতীয় ব্রাহ্মণ মহাসভায় যোগ দিয়েছিলেন ওম। সেখানে তিনি বলেন, ত্যাগ ও তপস্যার কারণে ব্রাহ্মণেরা বরাবরই সমাজে উচ্চ স্থানে আসীন। তাঁরা সমাজে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে এসেছেন। এরপর থেকে স্পিকারের এমন বক্তব্য নিয়ে ভারতজুড়ে শুরু হয় বিতর্কের ঝড়।
ভারতের এক ইতিহাসবিদ গৌতম ভদ্র জানান, ওম যে ভাবে জাতিভেদ প্রথা ও ব্রাহ্মণদের শ্রেষ্ঠত্বকে তুলে ধরেছেন তা আদৌও মানতে রাজি নন।
এছাড়া ভারতের এই স্পিকারের বক্তব্যের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করেছে পিপল্স ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিস (পিইউসিএল)-এর রাজস্থান শাখার সভাপতি কবিতা শ্রীবাস্তব।
আরও পড়ুন: যুদ্ধ শুরু করলে ইসরাইল ধ্বংস হয়ে যাবে: হিজবুল্লাহ
তাঁর দাবি, স্পিকারকে ওই মন্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। কবিতা বলেন, ‘ একটি বর্ণ বা জাতকে অন্যদের চেয়ে ভাল বলা বা একটি জাতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা ভারতীয় সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এটা এক দিকে অন্য বর্ণকে খাটো করে দেখায় তথা জাতিভেদ প্রথাকে আরও উৎসাহিত করে।’
ইত্তেফাক/এসআর