ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে গত মঙ্গলবার। কারবালার শোকাবহ ও হূদয়বিদারক ঘটনার এ দিনটি ধর্মীয়ভাবে বিশ্বের মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ, শোক ও বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রতীক হিসেবে দিনটি তাত্পর্যপূর্ণ পবিত্রতম দিবস। আশুরা উপলক্ষ্যে পুরান ঢাকার হোসেনি দালানের সামনে থেকে সকালে বের হয় শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এ তাজিয়া মিছিল বের হয়। কালো-লাল-সবুজের নিশান উড়িয়ে, কারবালার শোকের মাতম তুলে হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন মিছিলে। বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম ধ্বনি তুলে এগিয়ে যায় মিছিল। রাজধানীর বড় কাটারা ইমামবাড়া, খোজা শিয়া অনুসারী ইমামবাড়া এবং বিবিকা রওজায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। প্রতিটি ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশি করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হয়েছে। মিছিলে ব্যাগ, পোটলা, টিফিন ক্যারিয়ার বহন করা যায়নি। তাজিয়া মিছিলে ঢোল বাজিয়ে দা, ছুরি, তলোয়ার ও লাঠিখেলা নিষিদ্ধ ছিল। জননিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের গৃহীত এসব পদক্ষেপ সকলে মেনে নেওয়াতে এবারের আশুরা যথেষ্ট শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। মাঝখানে বৃষ্টিও অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে।
তাজিয়া মিছিলটি বকশিবাজার, উর্দুু রোড, লালবাগ চৌরাস্তা, গৌর-এ শহীদের মাজার, আজিমপুর, নিউমার্কেট হয়ে জিগাতলা গিয়ে শেষ হয়। পথের দুই পাশে ছিল উত্সুক জনতার ভিড়। পবিত্র এই দিন উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে নানা আয়োজন করা হয় এবং রোজা রেখে ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি কাটিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। দিনটি ছিল সরকারি ছুটির দিন। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এ দিনের তাত্পর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করেছে। মসজিদে মসজিদে মাহফিলের আয়োজন করা হয়।