প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শান্তি ও শৃঙ্খলা অপরিহার্য। আর এ দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ বাহিনীর ওপর বর্তায়। আমি আশাবাদী, পুলিশ এখন যেভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে, তেমনি ভবিষ্যতেও করবে।’ গতকাল বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সরকার দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে, যেখানে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম সুন্দর ও উন্নত জীবন পাবে। বাংলাদেশ পুলিশ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মালিকানাধীন এই ব্যাংকের লক্ষ্য বিভিন্ন কমিউনিটির সদস্যদের কাছে পৌঁছানো এবং উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘুষ ছাড়া নিয়োগে পুলিশ বাহিনী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এজন্য বাহিনীটিকে ধন্যবাদ জানাই।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণত পুলিশে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে চিরদিন একটা দুর্নাম ছিল। শুধু পুলিশ কেন, সব ক্ষেত্রে নিয়োগে একটা ঘুষ-দুর্নীতির বদনাম রয়েছে। পুলিশ এখানে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবার। ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্তভাবে এবার নিয়োগ হয়েছে। অতিসাধারণ, দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরাও আজ চাকরি পেয়েছে। সে জন্য আমি বিশেষভাবে পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি জেলায় জেলা, উপজেলা পর্যায়ে যারা দায়িত্বরত ছিলেন, প্রত্যেকে এ ব্যাপারে সততার সঙ্গে, দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে একটা বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটা সবাইকে অনুসরণ করতে হবে। সরকারের অন্য সংস্থাগুলোকেও ঘুষ ছাড়া নিয়োগের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অন্যরাও এটা অনুসরণ করতে পারে, দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। যাতে সাধারণ মানুষ সুযোগ পায়।
পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে এবং গুলশানের করপোরেট কার্যালয়ে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
গতকালের অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্রসচিব (জননিরাপত্তা বিভাগ) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বাংলাদেশ কমিউানটি ব্যাংকের বিষয়ে ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করেন।
বিদ্যুত্ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
এদিকে গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি বিদ্যুেকন্দ্র, আটটি ৩৩/১১ কেভি জিআইএস উপকেন্দ্র এবং ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুত্ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে, যারা বিদ্যুত্ ব্যবহার করবেন তারা সাশ্রয়ী হোন, অতিরিক্ত বিদ্যুত্ যেন নষ্ট না হয়। বিদ্যুত্ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বিলটাও কম আসবে, সেটা মাথায় রাখতে হবে।’
আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, সরকার ও ব্যবসায়ীদের আগাম জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো জাতির একার পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়। গত মঙ্গলবার ঢাকা থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’-এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী গৃহীত বেশ কিছু উদ্যোগের আবাসস্থল, যা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার লড়াইয়ে সম্মিলিতভাবে আমাদের টিকে থাকার জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘কমিশনের একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে যদিও বাংলাদেশ অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, তথাপি অনেক কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘যে কারণে আমি ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের নতুন কার্যালয় খুলতে দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছি।’