জরাজীর্ণ ভবনে শতবর্ষী রাধা সুন্দরী প্রাথমিক বিদ্যালয়

রাজধানীর সূত্রাপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী স্কুল রাধা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি এই বছর শতবর্ষপূর্ণ করলেও মাত্র ৭৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এখানে। তিন তলা ভবনের  এ বিদ্যালয়ের অবস্থা এখন খুবই নাজুক। পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ থাকলেও পাঠদান চলে মাত্র তিনটিতে। পাঁচটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে নিচ তলার দুটিতে বৃষ্টির সময় পানি ওঠার কারণে সেখানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন। দুই শিফটে স্কুল পরিচালনার কারণে এখনো ক্লাস চালু রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানান এই শিক্ষক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির নিচের দুটি কক্ষ খালি পড়ে রয়েছে। দোতলা ও তিন তলায় শুধু  তিনটি কক্ষে পাঠদান চলছে। এর মধ্যে ওপরের একটি কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় সেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সেই স্থানের নিচে শিক্ষার্থীদের বেঞ্চ রাখা হয়নি। বিদ্যালয়ের তিনটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চ রয়েছে মাত্র  ৩০টি। তাও আবার ভাঙাচোরা। এছাড়া স্টোর রুমে  পড়ে আছে  আরো ভাঙা অনেক বেঞ্চ। গত পনেরো বছরেও  নতুন কোনো চেয়ার-টেবিল কেনা হয়নি বলে জানা যায়।

জানা যায়, ১৯১৯ সালে সূত্রাপুরের বাসিন্দা রমনী মোহন বসাক প্রতিষ্ঠা করেন বিদ্যালয়টি। ১৯৭৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে এটি স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন  বিদ্যালয়টিতে। এত বছর পার করলেও এর অবকাঠামোগত তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। সংক্ষিপ্ত পরিসরে তিন তলা ভবন গড়ে উঠলেও এটি এখন প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো খেলার মাঠ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাত চন্দ্র সরকার বলেন, আর্থিক অনুদান না থাকায় বিদ্যালয়টি এ অবস্থায় রয়েছে। তবে তারা ইতোমধ্যে দেয়ালের রং করাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বৈঠকে বসে আলোচনা  করেছেন বলে জানান। এদিকে গত ৪ সেপ্টেম্বর ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়টির অপরিচ্ছন্নতা, সরকারি অর্থের অপচয়সহ নানা কারণে ক্ষোভ  প্রকাশ  করেন।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ার বিষয়ে স্কুলের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি মো. শহিদউল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য যে পরিমাণ অর্থ দরকার তা নেই। সরকারিভাবে যদি কোনো অনুদান পাই তাহলে আমরা সংস্কারের কাজ করব।