নগরীতে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। বৃষ্টির কারণে নগরীর বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, ঝাউতলা, আগ্রাবাদ, পাথরঘাটা, আসাদগঞ্জ, চাক্তাই, ডিসি রোড ও বাকলিয়ায় বাড়ি-ঘর ও দোকান-পাটে পানি ওঠায় এসব এলাকার জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। টানা বৃষ্টিতে ডুবে যায় আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলা। এতে শিশুদের নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন চিকিত্সা নিতে আসা মায়েরা। এছাড়া বৃষ্টিপাতের কারণে দিন-মজুর ও শ্রমজীবী মানুষরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে।
দুপুর থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে নগরীর সিডিএ অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন সড়ক হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে যায়। বিভিন্ন বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ে। সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়। ফলে জনজীবনে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা। নগরীর বিভিন্ন সড়ক এলাকাজুড়ে ব্যাপক খোড়াখুঁড়ি ও পাইপ বসানোর কার্যক্রমের পর তা যথাযথভাবে মেরামত না করায় এবারের পানি কাদায় এক বিপর্যয়কর অবস্থার সৃষ্টি হয়। দুপুরে প্রবল বর্ষণের সময় শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরতে নিদারুণ কষ্টের শিকার হতে হয়।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মৌসুমি বায়ু প্রবাহের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। চট্টগ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া সমুদ্রে বায়ু চাপের তারতম্যের কারণে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঝড়ো হাওয়াও বয়ে যেতে থাকে। দেশের চার সমুদ্র বন্দর যথাক্রমে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন আবহাওয়াবিদরা।