নায়িকা সিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ শিগিগরই চার্জশিট

চট্টগ্রামে আলোচিত বিমান ছিনতাই চেষ্টার মামলায় চিত্রনায়িকা শামসুন নাহার সিমলাকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তার জিজ্ঞাসাবাদ চলে।

জিজ্ঞাসাবাদে বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন, বিবাহ বিচ্ছেদসহ নানা প্রসঙ্গে সিমলার কাছে জানতে চাওয়া হয়। সিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজেশ বড়ুয়া। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রশ্নে সিমলা বলেন, পলাশ কেন বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করতে গেছেন, তা তিনি বলতে পারবেন না। তিনি বলেন, আমাদের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের পর মনে হয়েছিল ওর মানসিক সমস্যা আছে। তাই তিক্ত হয়ে ডিভোর্স দিই।

পুলিশ কর্মকর্তা রাজেশ জানান, বিমান ছিনতাই চেষ্টাকালে পলাশ তার সাবেক স্ত্রী সিমলার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। তাই মামলার প্রয়োজনে সিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন ছিল। বিদেশে অবস্থানসহ নানা কারণে তিনি এত দিন আমাদেরকে সময় দিতে পারেননি। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে অনেকক্ষণ কথা হয়েছে। তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা মামলার কাজে আসবে। পলাশকে তিনি ‘অত্যন্ত ধূর্ত’ প্রকৃতির লোক বলে উল্লেখ করেছেন। সিমলার দেওয়া সব তথ্য যাচাই করে দেখা হবে। সিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে আমরা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আশা করছি শিগগিরই অভিযোগপত্র প্রদান করতে পারব।      

উল্লেখ্য, এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট (ময়ূরপঙ্খী) ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, বিকাল ৫টা ১৩ মিনিটে বিমানটি ঢাকা থেকে উড্ডয়নের ১৫ মিনিট পর মাঝ আকাশে পলাশ আহমেদ নামে এক যাত্রী অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ শুরু করেন। তিনি তার সাবেক স্ত্রী অভিনেত্রী সিমলা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দাবি করেন। বিমানের ক্রুরা তাকে আসনে বসানোর চেষ্টা করলে তিনি পিস্তল বের করে ভয়ভীতি দেখান। বোমাসদৃশ বস্তু দেখিয়ে বিমানটি উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। নানা নাটকীয়তার মধ্যে বিকাল ৫টা ৪১ মিনিটে বিমানটি চট্টগ্রামে অবতরণের কিছুক্ষণ পর এক কমান্ডো অভিযানে পলাশ নিহত হলে কথিত ‘ছিনতাই চেষ্টার’ অবসান ঘটে।

ওই ঘটনায় পলাশসহ কয়েকজনকে আসামি করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানায় ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলা করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২৪ মার্চ কাউন্টার টেরোরিজমের একটি দল পলাশের বাবা পিয়ার জাহান, মা রেণু বেগম, চাচা দ্বীন ইসলামসহ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীসহ ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

হতাশা থেকেই বিমান ছিনতাই চেষ্টা!

স্ত্রী সিমলার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের জেরেই পলাশ বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করছে তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এ প্রসঙ্গে এসআই রাজেশ বড়ুয়া ইত্তেফাককে জানান, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার গুলশানে এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পলাশের সঙ্গে সিমলার প্রথম দেখা হয়। ২০১৮ সালের ৩ মার্চ সিমলার সঙ্গে পলাশের বিয়ে হয়। তবে এই বিয়ে টেকেনি। মাত্র আট মাসের মাথায় ৬ নভেম্বর তাদের বিচ্ছেদ হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের পর সিমলা আর পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। ফোন করলে কথা বলতেন না। এতে পলাশের মনে চাপা ক্ষোভের জন্ম হয়। বিমান ছিনতাই চেষ্টার সময় বারবার সিমলার সঙ্গে দেখা করতে চাওয়াটা তার সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।