ভিন্নমত দমনে সচেষ্ট সরকার ------------মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শুধু বিএনপি নয়, বাংলাদেশে যাতে বিরোধী দল না থাকে, ভিন্নমত না থাকে, বিলীন হয়ে যায় তার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছে সরকার। তিনি বলেন, আজ গোটা দেশের সমাজ ব্যবস্থা বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে। এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে ফ্যাসিস্ট সরকার। আজ এতগুলো টিভি চ্যানেল কিন্তু জনগণের কথা কি তারা তুলে ধরতে পারছে?

গতকাল বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, সরকার গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। শুধু ভিন্ন লেবাসে বাকশাল শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। তিনি অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিত্সা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, এককথায় দেশে কোনো সরকার নেই। সরকার ‘উন্নয়ন উন্নয়ন’ বলে যে চিত্কার করছে, জিগির তুলছে সেটি আসলে রূপকথার গল্প। সরকার সচেতনভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে দেশ শাসন করছে। একই ধরনের মামলায় অন্য অনেকে জামিন পেলেও কেবল বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন যে আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না, করলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকত না। এই কথাটা বলতে উনি কী এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে আসলে তারা বিএনপির অস্তিত্ব রক্ষা না করবার জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন!

বিএনপি নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। একইভাবে আজকে ভিন্ন কায়দায় একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ছাত্র জীবনে আমি এক রাজনীতি করেছি আর আমার বাবা আরেক রাজনীতি করেছেন। কখনো সমস্যা হয়নি। এখন তো আপনার ছেলে বিপদে পড়ে যাবে তার বাবা যদি আওয়ামী লীগ করে, আর যদি ছেলে বিএনপি অথবা ছাত্রদল করে তাহলে বাবার বিপদ হবে। আজকে আমাদের ২৬ লাখ নেতাকর্মীর নামে ১ লাখের বেশি মামলা। গ্রামের ‘দুষ্টু মোড়লদের’ মতো মামলা দিয়ে বিরোধী রাজনীতিকদের ঘায়েল করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের এই কৌশলের কারণে এখন দেশ থেকে ভালোবাসা, মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ব তিরোহিত হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টানতে না পারার জন্য সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের তরফ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ব্রিফিংয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।