বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় দুই ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু চিকিত্সাধীন ৯৯ জন

বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আরো এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আট জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে শেবাচিম হাসপাতালে। গতকাল সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া রোগীর নাম সুরাইয়া আক্তার (১৪)। সে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের বাদল মুন্সির মেয়ে এবং স্থানীয় পশ্চিম হারিটানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপক ডা. অসিত্ ভূষণ দাস জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত সুরাইয়া বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার তার মৃত্যু হয়। সুরাইয়ার পিতা বাদল মুন্সি জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর বাড়িতে বসেই সুরাইয়া জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রক্ত পরীক্ষা শেষে জানা যায় সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। তাই সেখান থেকে বরিশালে নিয়ে আসার পর এখানে তাকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছিল। পরে সে মারা যায়। এর আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত বুধবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় বরিশালের মুলাদী উপজেলার মধ্য চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাবুল আহমেদ হাওলাদারের ছেলে এবং স্থানীয় চর লক্ষ্মীপুর আদর্শ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ফরহাদ হোসেন জিহাদের (১৩) মৃত্যু হয়।

শেরে-ই বাংলা মেডিক্যালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিল ৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে পুরুষ ৩৯ জন, নারী ৩৪ জন এবং শিশু ২৬ জন। গত ১৬ জুলাই থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ১৭০ জন রোগী। একই সময়ে চিকিত্সায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৬৩ জন। এই সময়ে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আট জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে শেবাচিম হাসপাতালে। এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৩ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়।