বনসাই শিল্পের প্রসারে এবং নান্দনিকতাকে ছড়িয়ে দিতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বনসাই প্রদর্শনী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দেশের শীর্ষস্থানীয় বনসাই সংগঠন রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটির উদ্যোগে ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ অডিটোরিয়ামে এ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। এটি এ সংগঠনের ১১তম আয়োজন।
প্রদর্শনী ঘুরে দেখা গেছে সোসাইটির শিল্পীদের নিজ হাতের ছোঁয়া ও যত্নে সৃষ্ট নান্দনিক সব বনসাই। প্রদর্শনীতে ৩০ জন বনসাই শিল্পী অংশ নিয়েছেন। যাতে ৫০ প্রজাতির প্রায় ৩০০টি বনসাই স্থান পেয়েছে। দেশি বনসাইয়ের মধ্যে রয়েছে পাকুর বট, হিজল, তমাল, তেঁতুল, কামিনী, অর্জুনসহ বিভিন্ন গাছ। বিদেশি বনসাইয়ের মধ্যে রয়েছে জুনিপার, ফোকেনটি, ফাইকাস লং আইল্যা, গ্রীণ আইল্যান্ড, প্রেমনা, সরা, হানি লুকাস্ট, বারবাডুস চেরি, রাইটিয়া রেলিচুয়াসা, চাইনিজ এলেমসহ আরো নানা বনসাই।
উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন এটিএন বাংলার পরিচালক নাহিদ রহমান ও ইফাদ গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আবির বকশী। সোসাইটির সভাপতি গুলসান নাসরীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মনিরউদ্দিন আহমেদ।
সাইফুল আলম বলেন, বনসাই একটি অতি প্রাচীন শিল্প। আর এ শিল্পটি হলো—একটি বড়ো বৃক্ষকে নান্দনিকভাবে ছোটো করে রাখা, সতেজ করে রাখা। আর সত্যিকার অর্থেই শিল্পে রূপান্তর করা। এই কারণেই গাছ লাগালে তাকে শিল্প না বললেও বনসাই তৈরি করা হলে তাকে আমরা শিল্প বলি। এই শিল্প সৃজনের জন্য কবির মতো দিগন্ত প্রসারিত দৃষ্টির দরকার হয়। নান্দনিকতাবোধ, কারুশিল্পীদের মতো মানসিক গভীরতার দরকার হয়।
গুলসান নাসরীন চৌধুরী বলেন, যারা শহরে থাকেন তাদের ছোটো ছেলেমেয়েদের অনেকেই আমাদের দেশের বিভিন্ন গাছপালা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। তাই তাদের এইসব গাছপালা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ প্রদর্শনী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বনসাই অমূল্য সম্পদ। এর স্টাইল, সিস্টেম ও বয়সের ওপর ভিত্তি করেই এগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়। এর ভবিষ্যত্ খুবই উজ্জ্বল। যদি বনসাই শিল্প বাড়ানো যায়, তাহলে এগুলো রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। প্রদর্শনী চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। খোলা থাকবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।