সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
তরুণ ফুটবলারদের খুঁজে বের করা ও নতুন ফুটবলারদের তুলে আনতে আবার শুরু হলো অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল টুর্নামেন্ট। প্রিমিয়ার লিগের বড়ো আসর তথা পেশাদার লিগের ক্লাবগুলোর জন্য অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। বিজেএমসি ছাড়া বাদবাকি ১২ দল নিয়ে গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে টুর্নামেন্টের চতুর্থ আসর। লিগ আয়োজনের কথা থাকলেও লিগ কমিটি সেটা না করে টুর্নামেন্ট আকারে আয়োজন করছে। ১২ দলকে তিন গ্রুপে দেওয়ায় একটি ক্লাব গ্রুপ পর্বে মাত্র দুইটি ম্যাচ খেলবে। ফাইনাল পর্যন্ত কেউ উঠলে সেই দল পাঁচটি ম্যাচ পাবে। তৃণমূলে এভাবে খেলা হলে কোনো ফসল ঘরে তোলা যাবে না। এমন মন্তব্য করেছেন মোহামেডানের অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি। ‘এটা করে কোনো লাভ নেই—বললেন এমিলি। যুক্তি দিয়ে এমিলি বললেন, ‘এই ফুটবলারদের ভবিষ্যত্ কী। লিগ পদ্ধতির খেলা হলে খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রমাণ করতে পারতো। সিনিয়র দলেও সুযোগ পেত। অন্য ক্লাবগুলো চোখ রাখতো খেলায়। এখন এই টুর্নামেন্ট খুব একটা লাভ হবে মনে হয় না।’ লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে এসে জানিয়েছেন ফুটবলের নতুন মুখের সন্ধান শুরু হলো। আমি আশাকরি, এখান থেকে জাতীয় দলেও ঢুকবে। আগামী বছর হতে লিগ পদ্ধতিতে আয়োজন করা হবে।
টুর্নামেন্টের প্রথম দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান এবার দল গঠন করতে গিয়ে ট্রায়াল ডাকলে হাজার-বারো শ ফুটবলার যোগ দেয়। তিন দিনে ১৫-১৬টি ট্রায়াল ম্যাচের আয়োজন করে ৪০ ফুটবলার বাছাই করতে গলদঘর্ম হয়েছেন এমিলি, পাপ্পু, মিশু, কোচ শহিদুল ইসলাম জুয়েলরা। ৪০ ফুটবলারকে দুই সপ্তাহ প্রশিক্ষণ দিয়ে এখন ২৫ ফুটবলার নিয়ে মোহামেডান টেন্টেই ক্যাম্প হচ্ছে। সোমবার বসুন্ধরার বিপক্ষে মোহামেডানের প্রথম ম্যাচ। বুধবার আবাহনীর বিপক্ষে। ট্রায়াল নিয়ে খেলোয়াড় বাছাই করতে প্রায় হাজার খানেক ফুটবলার পেয়েছিল মুুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র।
আবাহনীকে মোহামেডানের মতো গলদঘর্ম হতে হয়নি। আবাহনীর ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিত দাস রুপু জানালেন, তাদের আগের কিছু ফুটবলার ছিল। নতুন যারা এসেছিলেন তাদের নিয়ে একমাস অনুশীলন করিয়েছেন আবাহনী সিনিয়রদের কোচিং স্টাফ। টুর্নামেন্টের বর্তমান আবাহনীর তরুণ ফুটবলাররা এখন বড়োদের ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। রুপু বললেন, ‘আমাদের টার্গেট চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’ আজ আবাহনীর প্রথম ম্যাচ বসুন্ধরার বিপক্ষে।
নোফেল স্পোর্টিং ক্লাব ক্যাম্প শুরু করেছে ১০ দিনও হয়নি। দলের কোচ আকবর হোসেন রিদন জানালেন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালীর ছেলেরাই মূলত খেলছে আমাদের দলে।’ স্ট্রাইকার রিদন খুব আশাবাদি কিছু প্রতিভাবান ফুটবলার পাওয়া যাবে। তবে লিগ হলে ফুটবলের মানিক-রতনগুলো আরো ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া যেতো। ১২ দলের মধ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী দলগঠন করেছে বসুন্ধরা কিংস এবং সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। এই দুইটি দল একাডেমি আকারে কোচিং স্টাফ রেখে অনুশীলন করাচ্ছে। কামাল বাবু সাইফের কোচ হলেও তদারকি করেন ইংলিশ কোচিং স্টাফ। প্রথম ম্যাচ দেখতে হাজির ছিলেন ইংলিশ তিন কোচ।