দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় বেগমগঞ্জের খালগুলো

হরলাল ভৌমিক, চৌমুহনী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা

অবৈধ দখল, দূষণ ও ভরাটের ফলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার খালগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নেই। পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় বেগমগঞ্জে প্রতি বছর সৃষ্টি হয় দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা। ফলে বেগমগঞ্জসহ নোয়াখালী জেলার উত্তরাঞ্চলের ৪টি উপজেলায় ফসল উত্পাদন ব্যাহত হওয়াসহ দেখা দেয় নানা সমস্যা। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা।

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে বেগমগঞ্জ উপজেলা নিচু এলাকা হওয়ায় বর্ষার শুরুতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে বেগমগঞ্জে জড়ো হয়। আগে জেলার বিভিন্ন সংযোগ খাল দিয়ে পানি নোয়াখালী খালে সরাসরি নেমে যেত। পরে নোয়াখালী খালের মাধ্যমে জেলার দক্ষিণে এবং পশ্চিমে মেঘনা নদীতে পানি নিষ্কাশিত হতো। গত কয়েক বছর যাবত্ দক্ষিণে পলি জমে খালের গভীরতা কমে যাওয়ায় সমস্ত পানি বেগমগঞ্জে নেমে আসে এবং নোয়াখালী খাল দিয়ে পশ্চিম দিকের এক পথে পানি নিষ্কাশন হওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন সংযোগ খাল অনেক বছর খনন না হওয়ায় খালগুলোর গভীরতা কমে গেছে। এতে পানির ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় বর্ষার শুরুতে পানি খাল উপচে মাঠঘাট, রাস্তা, বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিত রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণ। রাস্তা নির্মাণের সময় একদিকের পানি আরেক দিকে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ কালভার্ট নির্মাণ করা হয় না। তাছাড়া প্রায়ই নতুন নতুন বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে, এসব বাড়িঘর তৈরি করতে কোনো প্রকার নিয়ম-নীতিও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যে যেভাবে পারছে বাড়িঘর তৈরি করছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, উপজেলার অভ্যন্তরে যেসব খাল রয়েছে সেগুলোও অবৈধ দখলকারীরা ভরাট করে দোকানপাট, বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করায় পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে চৌমুহনী শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত খালগুলোর দুই পাশ পাইকারি হারে দখল-বেদখল হওয়ায় খালের অস্তিত্ব বিলীন প্রায়। বর্ষার পানি স্বাভাবিক উপায়ে নিষ্কাশন হতে না পারায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। এতে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চাটখিল ও সেনবাগ উপজেলায় আউস, আমন ও রবি ফসল হয় না। ভেসে যায় শত শত মত্স্য প্রকল্পের মাছ।

এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম ভূঞা জানান, জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে হলে খাল দখলমুক্ত করে লেভেল অনুসারে পুনঃখনন করতে হবে। এতে একদিকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে। অপরদিকে আরো বেশি পরিমাণ জমি চাষের আওতায় আনা যাবে। এবং আউস ও আমন ফসল চাষ করা সম্ভব হবে। এতে বেগমগঞ্জের খাদ্য ঘাটতি অনেকাংশে কমে আসবে। এ ছাড়া খালগুলো খনন করা হলে খাল থেকে উত্তেলিত মাটি দ্বারা রাস্তা নির্মাণ হবে। নির্মিত রাস্তা জনচলাচলে সুবিধা বৃদ্ধি করা ছাড়াও রাস্তার দুই পাশে বন সৃষ্টি করা যাবে।