ট্রলার ডুবি
পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা
গভীর সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়ে পিরোজপুরের এফবি আল-ছত্তার ও এফবি পূর্ণিমা নামে দুটি মাছ ধরা ট্রলার ডুবির কয়েক ঘণ্টা পর ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ২৯ জেলের মধ্যে পাথরঘাটায় ফিরে এসেছে ১২ জন। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরগুনা জেলা মত্স্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির কার্যালয়ে এসে পৌঁছান তারা। বাকি ১৭ জন জেলেকে অপর একটি মাছ ধরা ট্রলারে উদ্ধার করে পটুয়াখালীর মহিপুরে নিয়ে গেছে। পাথরঘাটায় ফিরে আসা জেলেরা হলেন—এফবি আল-ছত্তার ট্রলারের মাঝি ফাইজুল, মো. সিদ্দিক, আল আমিন, শাহ আলম, ইদ্রিস আলী, মো. পান্না, ইমান আলী, মো. ইদ্রিস মিয়া, নুরুল ইসলাম, হেমায়েত, শাহাদাত ও মো.সাদ্দাম হোসেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১১টার দিকে বঙ্গোপসাগরের গঙ্গামতির দক্ষিণে মাছ ধরার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে পিরোজপুরের পাড়েরহাটের ইকবাল’র মালিকানাধীন ট্রলার এফবি আল-ছত্তার ১৮ জেলে নিয়ে এবং এর কিছুক্ষণ পর ১৭ জন জেলেসহ পিরোজপুরের নিমাই বাবুর মালিকানাধীন এফবি পূর্ণিমা ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলার ডুবে যাওয়ার ৯ ঘণ্টা পর রাতে ভাসমান অবস্থায় পিরোজপুরের সুখ রঞ্জনের মালিকানা এফবি অনিমা ট্রলারের মাঝি ইলিয়াছসহ তাদের ট্রলারের জেলেরা ডুবে যাওয়া ২৯ জেলে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে রাতেই ১২ জেলেকে পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বাকি ১৭ জেলে পটুয়াখালীর অপর একটি ট্রলারে উদ্ধার করে আলীপুরের দিকে রওয়ানা হয়। পরে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাথরঘাটা বিএফডিসি মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রে এসে পৌঁছায় ১২ জেলে। এ দিকে ৬ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
ফিরে আসা মাঝি মো. ফাইজুল জানান, ট্রলার ডুবির সময় ছয় জেলে ট্রলারের মধ্যে অবস্থান করছিল। এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান না পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ জেলেরা হলেন—হারুন মিয়ার ছেলে ফায়েদ (২৮), দলিল উদ্দিনের ছেলে মনির (১৭), মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. হানিফা (১৭), সঞ্জয় (৩০), আনোয়ার (৪৬) ও বাদশাহ (৩৫)। তাদের পিতার নাম জানা যায়নি। তাদের সকলের বাড়ি পিরোজপুর জেলায় পারেরহাট এলাকার বিভিন্ন এলাকায়।
পাথরঘাটা দক্ষিণ স্টেশন কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার শাহ্ জামাল জানান, ট্রলার ডুবির খবর শুনে চট্টহগ্রাম থেকে কোস্টগার্ড উদ্ধার জাহাজ কামরুজ্জামান উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।
বরগুনা জেলা মত্স্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত ডুবে যাওয়া দুটি ট্রলার উদ্ধার হয়নি এবং ছয় জেলেরও সন্ধান পাওয়া যায়নি।