উত্পাদন বৃদ্ধিতে প্রতি উপজেলায় অভয়াশ্রম স্থাপনের উদ্যোগ

সিলেটে মাছের সংকট

হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস

দেশের মিঠা পানির মাছের বড়ো উত্স সিলেটের হাওরাঞ্চল। এখানে অসংখ্য নদী-নালা, খাল, বিল, পুকুর, হাওর, জলমহালে প্রচুর পরিমাণে মাছের উত্পাদন হয়ে থাকে। হাওর ও নদীতে বেশির ভাগ মাছ উত্পাদন হয় প্রকৃতিকভাবে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল হচ্ছে মাছের গুরুত্বপূর্ণ উত্স। শনির হাওরসহ সিলেট বিভাগের হাওরগুলো দেশের মত্স্য সম্পদের অন্যতম আধার। কিন্তু ইদানীং নানা কারণে মাছের উত্পদান ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে মাছের সংকট থাকে সারা বছর। মত্স্য বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এক যুগ আগে ১০৭ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত সিলেটের হাওরে। এর মধ্যে ৪৬ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

সিলেট বিভাগীয় মত্স্য কর্মকর্তা সুলতান আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, সিলেটে মাছের উত্পাদন আরো বৃদ্ধির জন্য প্রতি উপজেলায় একটি করে অভয়াশ্রম স্থাপানের পরিকল্পনা হয়েছে। খুব শিগগিরই তা বাস্তবায়ন হবে। এতে বিলুপ্ত মাছও সংরক্ষণ হবে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন নদীতে ২০টি অভয়শ্রাম রয়েছে। বিভাগীয় মত্স্য কর্মকর্তা জানান, ২০১৯ সালের সিলেট বিভাগে মাছের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫৫ দশমিক ৫ মেট্রিক টন। আর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৭০ হাজার ৬২৭ মে. টন। এ হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকে ৭০ হাজার ১৭১ দশমিক ৯২ মে.টন। কিন্তু তবু কেন স্থানীয় বাজারে মাছের সংকট? এমন প্রশ্নের জবাবে মত্স্য কর্মকর্তারা বলেন, সিলেটের বাইরে মাছের দাম ভালো। তাছাড়া বাইরের ব্যবসায়ীরা সারা বছরের জন্য পুঁজি বিনিয়োগ করে রাখেন, তাই মাছের সরবরাহ হয় ঐ ব্যবসায়ীর আড়তে।

মাছের উত্পাদন বৃদ্ধিতে হাওর নদীতে বালি, কয়লা, অপরিকল্পিত বাঁধ, নদীর নাব্য হ্রাস ও পানি দূষণ প্রধান বাধা। ওই মত্স কর্মকর্তা আরো বলেন, বর্ষায় প্রবল স্রোতে মাছ ডিম দেয়। কিন্তু অপরিকল্পিত বাঁধ ও রাস্থাঘাট নির্মাণের ফলে প্রজননে সমস্যা হয়। তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমে (এপ্রিল থেকে আগস্ট) মাছের চলাচলের জন্য ‘ফিস পাস’ রাখতে হবে। এই সময়ে সিলেটের এক লাখ ৫২ হাজার জেলে যাতে মাছ না ধরেন—এজন্য তাদের খাদ্য-সহায়তা দিতে হবে।

হাওরে জৈব নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন

ভেজাল মত্স্য খাদ্য ব্যবহারের ফলে প্রাকৃতিক উেসর মত্স্য সম্পদের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ভারী ধাতুর উপস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মত্স্যবিজ্ঞানীরা। সিকৃবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বেনবেইজ’-এর অর্থায়নে মাত্স্য প্রযুক্তি ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগ এ বাস্তবায়নাধীন ‘ব্যাকটেরিয়লজিক্যাল অ্যান্ড ক্যামিকেল এনালাইসিস অব ইন্ডিয়ান মেজর কার্পস অব হাকালুকি হাওর ইন সিলেট রিজিয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্যোগে গত মে মাসে এ সংক্রান্ত  সেমিনারে সিলেটে ৪৬ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তর কথা উল্লেখ করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সিকৃবির ভিসি প্রফেসর ড. মো. মতিয়ার রহমান।

যেসব মাছ বিলুপ্ত

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনসিআরএস, আইডিয়া ও প্রচেষ্টার জরিপে বলা হয়, সিলেটের হাওরগুলোর ১০৭ প্রজাতির মধ্যে ৪৬ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তর পথে।