একটি গাছ কাটলে অবশ্যই দুটি গাছ লাগাতে হবে

আফরা মেহজাবীন শীন

 

প্রাণিজগত্ ও উদ্ভিদজগতের জন্য অপরিহার্য হলো আলো ও তাপ। এই আলো ও তাপ আমরা সূর্য থেকে পাই। সূর্য থেকে আলো ও তাপের সঙ্গে সঙ্গে মারাত্মক অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে আসে। সূর্যের বিকিরিত এই আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি পৃথিবী ও জীবজগতের জন্য ক্ষতিকর। এই রশ্মি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর, ওজোনস্তর।

ওজোনস্তরের তাপ শোষণ করার ক্ষমতা অনেক বেশি। সূর্যের তাপ ও অতি বেগুনি রশ্মি বা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি শোষণ করে বলে এ স্তরের উষ্ণতা বেশি। সর্বোচ্চ উষ্ণতা ২০° সেন্টিগ্রেড। ওপরের শেষ অংশে আবার উষ্ণতা কমে ৯০° সেন্টিগ্রেড হয়। ওপরের দিকে ওজোন গ্যাস হালকা বলে উষ্ণতা কম থাকে। হাজার হাজার বছর ধরে ওজোনস্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে আসছে।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, যে ওজোনস্তর পৃথিবীর প্রাণমণ্ডল রক্ষায় অতি প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করছে সেটি বর্তমানে ক্ষতির সম্মুখীন। ফলে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি পৃথিবীতে সরাসরি আঘাত করছে এবং পৃথিবীতে ক্যান্সার বাড়ছে। পৃথিবীর বড় বড় বরফের পর্বত এই রশ্মি দ্বারা গলে যাচ্ছে এবং পানিতে পরিণত হচ্ছে। ফলে জীববৈচিত্র্য ক্ষতি হবার সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অর্থাত্ ওজোনস্তরের ক্ষতি মানে পৃথিবীর প্রাণমণ্ডলের ও বায়ুমণ্ডলের ক্ষতি। উদ্ভিদ ও প্রাণী অর্থাত্ জীবজগতের ক্ষতি।

ওজোনস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে পৃথিবীতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাড়বে। এবং তা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেলে একসময় পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। অতএব, আমাদের অক্সিজেন বৃদ্ধি ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড হ্রাসের ব্যবস্থা করতে হবে। আর এর একমাত্র উপায় হচ্ছে অধিক মাত্রায় বৃক্ষরোপণ।

ওজোনস্তর পৃথিবীর জন্য অপরিহার্য। ওজোনস্তরের কারণে আমরা বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাই। ওজোনস্তর ক্ষতি হওয়ায় পৃথিবীও এখন ক্ষতির সম্মুখীন। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে একসময় ওজোনস্তর পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি সরাসরি পৃথিবীকে আঘাত করবে। পৃথিবী উষ্ণ হতে শুরু করবে এবং প্রাণীর বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠবে। পৃথিবী একটিই। একে বসবাসযোগ্য রাখতে হলে আমাদের সকলকে ক্ষতিকর রাসায়নিক যৌগ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং একটি গাছ কাটলে অবশ্যই দুইটি গাছ লাগাতে হবে, যাতে অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত থাকে।

রাজশাহী