পণ্যের দাম একবার বাড়লে আর কমতে চায় না

কোনো নিত্যপণ্যের দাম একবার বাড়লে যেন আর কমে না। গত কয়েক মাস ধরে প্রায় এক অবস্থায় রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম। কোনো সপ্তাহে দাম কমলেও পরের সপ্তাহেই তা আবার বেড়ে যায়। সবমিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তিনটি বেশ ভোগাচ্ছে ভোক্তাদের।

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, রসুন মানভেদে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও আদা মানভেদে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে পেঁয়াজের দর গত এক মাসে আরো বেড়েছে আর আদা-রসুনের দর কিছুটা কমেছে। সব মিলিয়ে গত তিন মাস ধরে পণ্য তিনটির প্রায় একই দর রয়েছে। 

গত জুলাইয়ের শুরুতে দেশে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। তখন ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে প্রণোদনা তুলে নেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারিতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে আসে। এরপর কোরবানির ঈদের পর থেকেই তা আবার ঊর্ধ্বমুখী। এছাড়া প্রায় একই অবস্থানে রয়েছে আদা-রসুনের দাম।

পেঁয়াজ আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারতের মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও মধ্য প্রদেশসহ পেঁয়াজের বড় সরবরাহকারী রাজ্যগুলোতে বন্যা হওয়ায় পেঁয়াজের আমদানি কমে গেছে। তারা চাহিদামতো পেঁয়াজ সরবরাহ হচ্ছে না। অথচ আমাদের আমদানিকৃত পেঁয়াজের প্রায় পুরোটাই ভারত থেকে আমদানি করা হয়। রাজধানীর কাওরান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আমজাদ বলেন, আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বাড়ায় দেশি পেঁয়াজের দামও বাড়তি। এছাড়া এখন পেঁয়াজের মৌসুম না হওয়ায় কৃষকের কাছেও পেঁয়াজ নেই। আগামী ডিসেম্বরে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার আগে দাম কমার তেমন সম্ভাবনা নেই। একই অবস্থা আদা-রসুনের ক্ষেত্রেও। অথচ তিন-চার মাস আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, রসুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা ও আদা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে আসা বেলায়েত হোসেন বলেন, কোনো কিছুর দাম একবার বাড়লে আর কমে না। ভোক্তাদেরও তা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

বাজারে উঠেছে শীতকালীন সবজি শিম। তবে দাম বেশি। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি ঢ্যাঁরশ, পটোল, কাঁকরোল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, করল্লা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙে, কচুরলতি, কচুরমুখি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচাপেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, টম্যাটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তাদের দৈনন্দিন বাজারদরের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। এ ছাড়া গরুর মাংস ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।