সৈয়দপুরে আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্যানেল মেয়র হিটলার চৌধুরী ভলুর স্ত্রী সুরভী ইসলাম চৌধুরী পপিকে (৩৫) গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। শুক্রবার রাত তিনটার দিকে শহরের গোলাহাট মহল্লায় ঐ নেতার বাসভবনের দুই কেয়ারটেকার এ ঘটনা ঘটায় বলে জানা গেছে। হামলার শিকার সুরভী ইসলাম চৌধুরী পপি হিটলার চৌধুরী ভলুর দ্বিতীয় স্ত্রী। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল ও পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিত্সকরা পপির গলায় ও হাতে ৪০টির অধিক সেলাই দিয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক কেয়ারটেকারের বাবাকে আটক করেছে।

জানা যায়, হিটলার চৌধুরী ভলুর শহরের পাওয়ার হাউস এলাকায় একটি ও গোলাহাট মহল্লায় আরেকটি বাড়ি রয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পপির ছোটো মেয়ে তাসফিয়া লাবিবা চৌধুরী অদ্রি (৭) সাংবাদিকদের জানান, তার বাবার কাজের জন্য রাখা দুই কেয়ারটেকার জীবন ও রাজা গভীর রাতে এসে ডাকাডাকি করলে মা দরজা খুলে দেন। এ সময় ঘরে ঢুকেই দুই কেয়ারটেকার হঠাত্ চাকু বের করে আম্মুর গলা কাটার চেষ্টা করে। এতে বাধা দেওয়ায় চাকুর আঘাতে আম্মুর হাত ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। এ সময় আমি ও আম্মু চিত্কার করতে থাকলে জীবন ও রাজা পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী জানায়, জীবন গোলাহাট মহল্লার মহম্মদ মুন্না এবং রাজা একই এলাকার মৃত সাগির হোসেনের ছেলে। এ ঘটনার পর তাদের আর এলাকায় দেখা যায়নি। তবে এলাকার সকলেই জীবন ও রাজাকে ভলু চৌধুরীর বিশ্বস্ত লোক বলে জানায়। কিন্তু তারা যে এত ভয়ংকর ঘটনা ঘটাতে পারে মহল্লাবাসী তা ভাবতেই পারেনি। এ ব্যাপারে হিটলার চৌধুরী ভলু বলেন, ঘটনার সময় তিনি পাওয়ার হাউস এলাকায় ছিলেন। খবর পেয়ে ছুটে আসেন এবং স্ত্রীকে প্রথমে সৈয়দপুর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি জানান, যে ছেলে দুটো এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আমার সঙ্গেই থাকে। তবে কেন বা কি কারণে এমনটা ঘটালো তা বুঝতে পারছি না।

সৈয়দপুর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল হাসনাত ফিরোজ জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জীবনের বাবা মুন্নাকে থানায়  আনা হয়েছে।