বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে বিরল রোগে আক্রান্ত এক শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, শিশুটি ‘হারলেকুইন ইকথায়োসিস’ নামের রোগে আক্রান্ত। জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরশেফালী গ্রামের এক দম্পতির ঘরে বুধবার জন্ম হয় শিশুটির।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর দেখা যায় সে দেখতে অন্য সব স্বাভাবিক শিশুর মতো নয়। এরপর অভিভাবকরা দুই কেজি ওজনের শিশুটিকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাত-পা সবকিছু থাকলেও পুরো শরীরে সাদা একটি আবরণ রয়েছে। যার মাঝে মাঝে লাল দাগ রয়েছে। চোখ দুটিও তার ভেতরেই আটকা রয়েছে। যা দেখে কেউ কেউ বিরলতম চর্মরোগও বলছেন। চিকিত্সকরা শরীরের ওপর থাকা আবরণটি নরম করার জন্য ওষুধ দিয়েছেন।
চিকিত্সকরা জানান, শিশুটি ‘হারলেকুইন ইকথায়োসিসে’ (Harlequin Ichthyosis) আক্রান্ত। সেজন্য তার ত্বক অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক নয়। এ ধরনের অসুস্থতায় জন্ম নেওয়া শিশুর শরীর পাতলা চামড়ার আবরণে ঢেকে থাকে। অপুষ্টি, শ্বাসকষ্টজনিত, ইনফেকশনসহ একাধিক সমস্যা নিয়ে এই শিশুরা ভূমিষ্ঠ হয়।
শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান ডা. সৈয়দ জাহিদ হোসেন জানান, শিশুটি বিরল জিনগত সমস্যায় আক্রান্ত। স্বাভাবিক মানুষের চামড়া যেভাবে তৈরি হয়, শিশুটির ক্ষেত্রে তা হয়নি। এটি খুবই বিরল একটি রোগ বলা চলে। কয়েক লাখে এ ধরনের একটি শিশুর জন্ম হতে পারে।