মেট্রোরেল পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। পরিবহন শ্রমিকদের জন্য ম্যাকরন সরকারের প্রস্তাবিত নতুন পেনশন পরিকল্পনার প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দেয় প্যারিসের মেট্রোরেল শ্রমিকরা।
নগরীর ১৬টি সাবওয়ের(মেট্রোরেলের রুট) ১০টিই বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। অন্য ছয়টি রুটেও রেল ও যান চলাচলে বেশ বিঘ্ন ঘটে। এতে প্যরিস জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক কর্মজীবী সাইকেল চালিয়ে কর্মক্ষেত্রে পৌছেন। অনেকে হেঁটেই গন্তব্যস্থলে যান। এছাড়া বেশিরভাগ নাগরিকই ঘরে বসে অলস সময় পার করেন। প্যারিসের পরিবহন কর্তৃপক্ষ অবশ্য নাগরিকদের জন্য ফ্রী উবার ই-বাইক ও স্কুটার নামিয়ে ফ্রী-যাতায়াতের ব্যবস্থা করেন।
২০০৭ সালের পর এটাই প্যারিসের সবচেয়ে বড় ধর্মঘটের ঘটনা; আর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাকরনের শাসনামলে প্রথম। ২০১৭ সালের মে'তে ক্ষমতায় আসেন ম্যাকরন।
পরিবহন কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিন প্যারিসে প্রতিদিনকার তুলনায় দ্বিগুণ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ২০০ কিমি.(১২৫ মেইল) লম্বা জ্যামের সৃষ্টি হয় এদিন প্যারিসে।
ম্যাকরন সরকার সম্প্রতি সবার জন্য 'এক পেনশন নীতি' পরিকল্পনা গ্রহণ করে। আগের পেনশন নীতিতে ৪২টি ক্যাটাগরি ছিল। মেট্রোরেল শ্রমিকদের অনেকেই আশংকা করছেন, নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, তারা বৈষম্যের শিকার হবেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দ্রুত অবসরে যাওয়ার যে সুযোগ রেলশ্রমিকরা ভোগ করে আসছিলেন, তা থেকে বঞ্চিত হবেন বলে মনে করছেন তারা।
প্যারিসের পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিয়মানুযায়ী গড়ে ৫৫.৭ বছর বয়সে অবসরে যেতে হয় পরিবহন শ্রমিকদের। অন্যদিকে ৬৩ বছর বয়সে অবসর গ্রহণের সুবিধাভোগ করে থাকেন মেট্রোরেল শ্রমিকরা।
সরকারের নতুন পেনশন পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এডোয়ার্ড ফিলিপ বলেন, 'আমরা চাইছি সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে।'
ইত্তেফাক/মিশু/এসআর