নুরুন্নাহার,সহকারী শিক্ষক,
আমিনা মনসুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাবনা সদর,পাবনা
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, বানানের কথা বলতে গেলে মনে প্রশ্ন জাগে লেখা এলো কোথা থেকে? লিখতে গেলে প্রয়োজন হয় বানানের। বন্ধুরা, বানান শব্দটির উত্স সংস্কৃত শব্দ ‘বর্ণন’ থেকে। অবশ্য আজকাল তোমরা অনেকেই এ মধুর বাংলা ভাষাকে বাংলার পরিবর্তে ইংরেজিতে লেখো। যেমন:ami vat khai, ma bari nai, ami tomake valobasi এরকম। বাংলা ভাষার জন্য জীবনদানকারী, আত্মত্যাগকারী মহত্ ব্যক্তিদের কথা স্মরণ করে দেখো তো তারা কি এরকম বাংলিশ ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন? অবশ্যই না। আবার অনেকেই পুরুষ ও কালভেদে ক্রিয়ার রূপ ব্যবহারেও ভুল করে থাকে। যেমন: আমি খায়, আমি পায় না, সে যাই, সবুজ পান খাই, রিজিয়া স্কুলে যাই ইত্যাদি। এটাও আশাতীত। মনে রাখতে হবে পুরুষ ও কালভেদে ক্রিয়ার রূপ ব্যবহূত হয়। অবশ্য সবার কাছে শুদ্ধ বানান আশা করাও ভুল। কেননা অনেকেই না জেনে লিখে থাকেন। তবে তোমরা আগামীর আলোর দিশারি। তাই তোমরাই পারবে বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার করতে। তাহলে এসো বাংলা ভাষাকে শুদ্ধরূপে পড়তে, বলতে ও লিখতে শিখি। বন্ধুরা, এসো আজও আমরা বানানের কিছ ুনিয়ম নিয়ে আলোচনা করি।
বানান শেখার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন। একই সাথে শব্দ গঠনের নিয়মগুলো ভালোভাবে জানতে হয়। বানানে কয়েকটি শব্দের শুদ্ধরূপ:
টি/টা/খানা/খানি/গুলি/গুলো/রা/এরা/গণ/বৃন্দ/সমূহ -বহুবচনবোধক শব্দের ব্যবহার:
টি,টা,খানা,খানি,গুলি,গুলো,রা,এরা,গণ,বৃন্দ,সমূহ- এইগুলো সবসময় একসাথে বসবে, কখনো আলাদা বসবে না। যেমন- কলমটি, বইখানা, খাতাগুলি, ছাত্রবৃন্দ, গ্রন্থসমূহ, ছাত্ররা, পাখিসব, ফলসমূহ, মেয়েরা ইত্যাদি।
কি/কী নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। তারপরও দৈনন্দিন জীবনে আমরা এই কি/কী এর ব্যবহারে উদাসীন।
অব্যয় শব্দ ‘কি’ এবং সর্বনাম শব্দ ‘কী’ এই দুইটি শব্দের সার্থকতা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।যে প্রশ্নের উত্তর শুধু হ্যাঁ বা না হয় সে-ক্ষেত্রেই শুধু ই-কার যুক্ত কি ব্যবহূত হবে। যেমন- তুমি কি খেয়েছো? ( সম্ভাব্য উত্তর -হ্যাঁ বা না)
## সর্বনাম পদরূপে এবং বিশেষণ ও ক্রিয়া-বিশেষণ পদরূপে ‘কী, শব্দটি ঈ-কার দিয়ে লেখা হবে। যেমন: তুমি কী খেয়েছো?, কী করছো? কী পড়ছো? কী জানি? এটা কী বই? কী করে যাব? কী আনন্দ! কী দুরাশা!
আবার অন্য ক্ষেত্রে অব্যয় পদরূপে ই-কার দিয়ে ‘কি’ শব্দটি লেখা হবে। যেমন: তুমিও কি যাবে? সে কি এসেছিল? কি বাংলা কি ইংরেজি উভয় ভাষায় তিনি পারদর্শী।
অপরাহ /পরাহ /পূর্বাহ /প্রাহ / মধ্যাহ্ন / সায়াহ্ন
অপরাহ, পরাহ, পূর্বাহ, প্রাহ- এ শব্দগুলোতে হ এর নিচে মূর্ধন্য-ণ বসে। অন্যদিকে মধ্যাহ্ন, সায়াহ্ন প্রভৃতি শব্দে যুক্ত হয় দন্ত্য-ন; এই দন্ত্য-ন বসে হ-এর পাশে। এশব্দগুলো লিখতে গিয়ে আমরা অনেকেই ভুল করে থাকি। আশা করি এখন থেকে আর ভুল হবে না।
বন্ধুরা, আমরা আগেও নিচের বিষয়গুলো আলোচনা করেছি। আবারও তোমাদের সুবিধার্থে সংক্ষেপে লিখে দিলাম।
(ক) অতত্সম শব্দের বানানে কোনো সময় মূর্ধন্য-ষ হয় না।
(খ) বিদেশি শব্দের বানানে কেবলই- কার হয়।
(গ) দেশ, ভাষা, জাতি বোঝাতেই- কার হয়।
(ঘ) ইক, আলি প্রভৃতি প্রত্যয় যুক্ত হলেই- কার হয়।
(ঙ) ঈয় প্রত্যয় যুক্ত শব্দে দীর্ঘ ঈ- কার হয়।
(চ) ইংরেজি শব্দের বানানে স হয়, ষ হয় না।
(সূত্র:প্রায়োগিক বাংলা- বাওবি এবং বাংলা বানান ও উচ্চারণ শিক্ষা- ড.আব্দুল আলীম)
বাংলা বানানের বিভিন্ন নিয়ম জানতে নিয়মিত চোখ রাখো বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন ফেইসবুক পেইজ গ্রুপে ও দৈনিক ইত্তেফাক এর অনুশীলন পাতায়।