পাকুন্দিয়ায় জলাবদ্ধতায় ৪০০ একর জমিতে ফসল উত্পাদন ব্যাহত

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের চারটি গ্রামের ৪০০ একর জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে ফসল উত্পাদন। কৃষকরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। প্রতিকারের আশায় ১ কিলোমিটার খাল খননের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন এলাকাবাসী।

 এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকরা একই জমিতে একাধিকবার ধানের চারা রোপণ করেও রক্ষা করতে পারেনি। যেখানে তিনটি ফসল উত্পাদন করা হতো, বর্তমানে দুটি ফসল উত্পাদন কঠিন হয়ে পড়েছে।

শৈলজানী গ্রামের কৃষক মো.আতিক শিশির জানান, তিনি তিন একর জমিতে আউশ ধান করেছিলেন। জমিতে পানি জলাবদ্ধ হয়ে থাকার কারণে কোনো রকমে ফসল ঘরে তুললেও আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারেননি। একই গ্রামের সিরাজউদ্দিন ও হানিফ জানান, নিজেদের জমিগুলোতে দুবার ধানের চারা রোপণ করেও অতিরিক্ত পানি থাকায় ধানের চারা রক্ষা করা যায়নি। এছাড়া চন্ডিপাশা গ্রামের শামসুল আলম মেম্বার জলাবদ্ধতার কারণে ছয় একর জমি আবাদ করতে পারেননি বলে জানান। এলাকাবাসী জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে খালিয়াবাড়ী ব্রিজের নিচ থেকে পূর্বদিকে পাকুন্দিয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশ দিয়ে ১ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন করলেই সমস্যা নিরসন হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.সাইফুল হাসান আলামিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ঐ চার গ্রামের ফসলি জমির জলাবদ্ধতার বিষয়টি তিনি জানেন। উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। শিগগির জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।