চার দিনের সফরে আগামী মাসে ভারতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩ থেকে ৬ অক্টোবরের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। ঐ বৈঠকে আসাম রাজ্যের জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়াদের নিয়ে ঢাকার উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাদ পড়াদের বাংলাদেশে পাঠানো নিয়ে এখনই কিছু বলতে চায় না তারা। কারণ এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ভবিষ্যতে কী হবে সেটা তখনই নির্ধারিত হবে। ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে একথা বলা হয়েছে।
খবরে আরো বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির নতুন মেয়াদে এটিই হবে দুই নেতার মধ্যে প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। তাদের অধীনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরালো হয়েছে। দুই নেতা যৌথভাবে বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন, বিশেষ করে দুই দেশের সংযোগ স্থাপনে জোর দিয়েছেন। মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি ৪ অক্টোবর ভারতের অর্থনৈতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতি নিয়ে শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখবেন।
সফর সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, আসামের রাজনীতিবিদদের প্রকাশ্য নানা মন্তব্যের কারণে বাংলাদেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, ভারত বাংলাদেশকে বোঝাবে যে, এখানে অবৈধভাবে বসবাসরত তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে। খবরে আরো বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে মিয়ানমারের লাখ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে ভারতের সমর্থন চাইবে বাংলাদেশ।
গত বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রবীশ কুমারকে প্রশ্ন করা হয়, কোনো বিদেশি নাগরিক এদেশে অবৈধভাবে থাকতে পারবে না বলা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এনআরসির ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কী হবে? আমরা কি তাহলে এই অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাব? বিষয়টা কি আমরা বাংলাদেশের কাছে তুলেছি? জবাবে তিনি বলেন, গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বাংলাদেশ সফরে বলেছেন, এটা পুরোপুরি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আর এটাও বুঝতে হবে যে, আমরা এমন একটি প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলছি যা বেশ দীর্ঘমেয়াদি ও সময়সাপেক্ষ। ট্রাইব্যুনাল আছে, এরপর হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া আছে। ফলে এই প্রক্রিয়ার অনেকটাই এখনো অনির্দিষ্ট। তাই ভবিষ্যতে কী ঘটবে সেটা নিয়ে আমাদের বেশি কথা না বলাই ভালো।