বিশ্বে ভুটানই প্রথম দেশ যারা জাতীয় সুখের সূচক ‘মোট দেশজ সুখ’ (গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস) চালু করে। বর্তমানে দেশটির ৭৬ শতাংশ মানুষ এ সূচকের ওপরে বাস করে। মজার বিষয় হলো, দেশটিতে যেসব আইন হয় তার প্রধান ভিত্তিই হলো সুখ। অর্থাত্ মানুষের সামগ্রিক জীবনের সুখ বিনষ্ট হতে পারে এমন কোনো আইন প্রণয়ন করে না ভুটান।
কার্বন নিঃসারণের দিক দিয়ে সব থেকে কল্যাণকর অবস্থানে থাকা দেশটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৌদ্ধ সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সামগ্রিক সুখের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ড. লোটায় টিসারিংয়ের ভাষায়, আমরা ভুটানের মানুষ অন্যদের থেকে পুরোপুরি স্বতন্ত্র, আমাদের গণতন্ত্রও স্বতন্ত্র। মোট দেশজ সুখ জিএনএইচ বলতে কখনোই হাহা হিহি করা বোঝানো হয় না। জিএনএইচ বলতে এখানকার মানুষের সন্তোষ, মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং চাহিদার ওপর নিয়ন্ত্রণকে বোঝানো হয়। এখানে একজন অন্যের সুখে ঈর্ষান্বিত হয় না। একজন অন্যের সুখে সুখী হয়। একে অন্যের প্রতি, সমাজের মানুষের প্রতি দয়াশীল। সুখ ভাগাভাগির মধ্যেই বেশি আনন্দ খুঁজে পায় এখানকার মানুষ। তিনি বলেন, আমাদের রাজা জিএনএইচকে মূল্যবোধের সঙ্গে উন্নয়ন হিসেবে বিবেচনা করেন।
আইন প্রণয়নের সময় যদি দেখা যায় সেটি জাতীয় সুখের সূচকে ভালো কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না, যদি দেখা যায় সেটি পরিবেশবান্ধব হবে না কিংবা যদি দেখা যায় সেটি ভুটানবাসীর সামগ্রিক কল্যাণে ভূমিকা রাখবে না তাহলে সেই আইন অনুমোদন লাভ করে না।
প্রতি পাঁচ বছর পরপর দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৮ হাজার পরিবারকে বেছে নিয়ে সুখের সূচক তৈরি করে ভুটান। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানসিক অবস্থান ইত্যাদির ওপর প্রতিটি পরিবারকে তিন ঘণ্টাব্যাপী নানা প্রশ্নের জবাব দিতে হয়। এখন পর্যন্ত ২০১০ সালে এবং ২০১৫ সালে দুই বার এই জিএনএইচ জরিপ হয়েছে দেশটিতে। আগামী ২০২০ সালে তৃতীয় জিএনএইচ জরিপ শুরু হবে দেশটিতে। মূলত সেই জরিপের ওপর ভিত্তি করেই দেশটির সব ধরনের উন্নয়ন নীতিমালা গ্রহণ করা হয়। -সিএনএন