রংপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের পর খুন, নন্দিগ্রামে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ

রংপুরের পীরগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া এক ছাত্রী এবং বগুড়ার নন্দীগ্রামে তৃতীয় শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পীরগঞ্জে ধর্ষণের পর ওই কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে ধর্ষক। অন্যদিকে বরগুনার পাথরঘাটায় কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে নিজের ভাইয়ের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক মা। সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে   ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

পীরগঞ্জে স্কুলছাত্রী সুরভী আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মেয়েটি উপজেলার চরকরিম গ্রামের হিরু মিয়ার মেয়ে। সে চণ্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ত। গতকাল শনিবার সকালে পীরগঞ্জের চণ্ডিপুর শাহাপাড়া গ্রামের একটি জঙ্গলের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা জানায়, সুরভীর মা-বাবা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। নানা চণ্ডিপুর শাহপাড়া গ্রামের মহসীন আলীর বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছিল সে। শুক্রবার বিকালে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে তার লাশের সন্ধান মেলে। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানায় মামলার প্রস্তুুতি চলছে।

অন্যদিকে, বগুড়ার নন্দীগ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে ধর্ষণ করেন মাদ্রাসার এক দপ্তরী। অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন বাবলু (৪৫)কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে  সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। শনিবার দুপুরে উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের মাজগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আলমগীর হোসেন মাজগ্রাম এমএ সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার দপ্তরী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের পর শিশুটিকে তার বাড়িতেই আটকে রাখে। সে চিত্কার করলে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে।

তৃতীয় ঘটনায় বরগুনার পাথরঘাটায় রেখা বেগম নামের এক মা তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে নিজের ভাইয়ের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আসামি করেছেন তার ভাই ও ভাবীকেও। রেখা ও জালাল মুন্সির সংসারের টানাপোড়েনের কারণে মামা আবুল কালামের বাড়িতে এক বছর আগে দেখাশোনার জন্য মেয়েকে রেখে যান তারা। কিন্তু মামাতো ভাই সোলায়মানের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে মেয়েটি।  এ খবর চেপে রেখে আবুল কালাম মেয়েটির বিয়ে দেন কালমেঘা ইউনিয়নের এক যুবকের সঙ্গে। কিন্তু শিগগিরই ওই কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বার খবর তার স্বামীর বাড়িতে জানাজানি হয়।

শুক্রবার বিকালে রেখা বেগম পাথরঘাটা থানায় নারী ও নির্যাতন দমন আইনে তার ভাই আবুল কালাম আজাদ, ভাইয়ের ছেলে ও ভাইয়ের বউকে আসামি করে পাথরঘাটা থানায় মামলা করেন। ডাক্তারি পরীক্ষায় মেয়েটি ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রমাণিত হয়। মামলার পর আবুল কালামকে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে প্রেরণ করা হলে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। সোলায়মানকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, আবুল কালামকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।