পুঁজিবাজারে ১২ কোম্পানির শেয়ারে কারসাজির অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সাথে সাত বিনিয়োগকারীর বিরূদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
কারসাজির শাস্তি হিসেবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানিকে পাবলিক মার্কেট থেকে স্পট মার্কেটে পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে মুন্নু সিরামিকস ইন্ডা. লি. এবং আলহাজ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ার আজ রবিবার থেকে স্পট মার্কেটে লেনদেন হবে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন এই শেয়ার দুটি শুধু নগদ টাকায় লেনদেন করা যাবে। নেটিং করা যাবে না বা মার্জিন ঋণ নিয়ে কেনা যাবে না। বৃহস্পতিবার কমিশনের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানাগেছে। গত ২১ আগস্ট পুঁবািজারের অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসি। সেই কমিটির সুপারিশের আলোকেই কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির তথ্যানুযায়ী কমিশনের সভায় ১২ কোম্পানির শেয়ারে কারসাজিতে জড়িত থাকার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হল, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কো. লি., ভিএসএফ থ্রেড ডাইং লি., আইপিডিসি ফাইন্যান্স লি., এস.এস স্টিল লি., ইনটেক লি., সায়হাম টেক্সটাইলস লি., সায়হাম কটন মিলস লি., রূপালী লাইফ ইন্সুরেন্স লি., মুন্নু সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লি., মুন্নু জুট স্টাফলারস লি., আইসিবি এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক লি.।
আনীত অভিযোগগুলো হলো শেয়ার মূল্য সংবেদশীল তথ্যের পূর্ব-প্রাপ্তির ভিত্তিতে লেনদেন, বাজার কারসাজি, সিরিজ অব ট্রেডিং, আচরণবিধি ভঙ্গ, অতিরিক্ত ঋণ প্রদাণ, অটো ক্লাইন্ট ট্রেড, আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়ম, শর্ট সেলিং, সার্কুলার ট্রেডিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বাজার মধ্যস্ততাকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা পরিপালনে ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের বিরূদ্ধে আইন ভঙ্গের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তাদের বিরূদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদনটি এনফোর্সমেন্ট বিভাগে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কর্তৃক মুন্নু সিরামিকস ইন্ডা. লি. এবং মুন্নু জুট স্টাফলারস লি. এর ধারণকৃত শেয়ারসমূহ তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত ফ্রিজ থাকবে অর্থাত্ শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তর, বন্ধকসহ সকল ধরণের লেনদেন বন্ধ থাকবে।
এসব অভিযোগে ছয় বিনিয়োগকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, বিশ্বজিত দাস ও তার স্ত্রী, কাজী মো. শাহাদাত হোসেন ও বি অ্যান্ড বি এস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মো. সাইফ উল্লাহ, হোসাম মো. সিরাজ, এ এস এস আহসান হাবিব চৌধুরী, মো. লুত্ফুল গনি টিটো ও তার স্ত্রী এবং তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সাতরং এগ্রো ফিশারিজ লিমিটেড। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি এই বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তর এবং লিংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শেয়ার অন্য প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে বিএসইসি। তবে তারা সেকেন্ডারি মার্কেটে নিয়মিতভাবে শেয়ার লেনদেন করতে পারবেন।
এদিকে আলহাজ টেক্সটাইল মিলস লি. এর পরিচালক মো. শামসুল হুদার বিরূদ্ধে নানা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য প্রতিষ্ঠান এএনএফ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তালিকাভুক্ত কোম্পানি আলহাজ টেক্সটাইলের পরিচালক মো. শামসুল হুদা বিধি লংঘন করে গোপনে শেয়ার বিক্রি করেছেন। তিনি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত নিজের সিকিউরিটিজ কোম্পানির মাধ্যমে ৪ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শেয়ার বিক্রি করেছেন। আলহাজ টেক্সটাইল মিলস অগ্রণী ব্যাংক থেকে বড় অংকের টাকা পাচ্ছে এমন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেন যা সঠিক নয়। সব শেয়ারই তিনি তার মালিকানাধীন ব্রোকারহাউজের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন। এসব অপরাধে মো. শামসুল হুদার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বিএসইসি।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিকিউরিটিজ আইনসমূহ ভঙ্গ করার অপরাধে মো. শামসুল হুদার বিরূদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে এনফোর্সমেন্ট সিদ্ধান্ত পর্যন্ত তার সিকিউরিটিজ স্থগিত (ফ্রিজ) থাকবে। এছাড়া এএনএফ ম্যানেজমেন্ট কো. লি. (ট্রেক হোল্ডার-১১৭) এর বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।