রোহিঙ্গাদের ভুয়া কাগজ তৈরিতে সিটি করপোরেশন কর্মকর্তারাও জড়িত!

রোহিঙ্গাদের জন্য নাগরিক পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি চক্রের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন বিভাগের (ডিএনসিসি) কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে র্যাব। গত বুধবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে এই চক্রের ছয় সদস্যকে আটকের পর তারা র্যাবকে এ তথ্য দিয়েছে।

র্যাব জানায়, বুধবার সিদ্ধিরগঞ্জের পাসপোর্ট অফিসের সামনের একটি কম্পিউটার দোকান থেকে চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়। চক্রটি সৌদি আরবে প্রবেশ করা কয়েকজন রোহিঙ্গার ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও পরিচয়পত্র পাঠিয়েছে। তাদের সঙ্গে আরো অনেকে জড়িত। পুরো চক্রটিকে ধরতে র্যাব-২ এর সদস্যরা কাজ করছে।

পুলিশ জানিয়েছে বুধবার আটক ঐ ছয় জনকে আসামি করে গত শুক্রবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। র্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুক জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন বিভাগের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এবং কম্পিউটারের দোকানে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ ও নাগরিক পরিচয়পত্র তৈরি করে আসছে। তারা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরি করারও চেষ্টা করছে। ডিএনসিসির অসাধু চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। র্যাব জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়াসহ আশপাশের এলাকায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অনেকেই অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া শুরু করেছে। দেশের কিছু দালালের সহযোগিতায় তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি করে নিচ্ছে। তবে পাসপোর্ট তৈরির জন্য জন্মনিবন্ধন সনদ ও নাগরিক পরিচয়পত্র তৈরিতে আইটি টিম তাদের সহযোগিতা করে।

মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কোনো কর্মকর্তার জড়িতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। অবৈধভাবে তৈরি করা নাগরিক পরিচয়পত্রগুলোতে সিটি করপোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদ  চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ড মেম্বারদের সিল স্বাক্ষরও ব্যবহার করা হয়েছে। এসব জনপ্রতিনিধি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কি না দেখা হচ্ছে।’