তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব দিন

আবু সালেম হোসাইন

আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে তরুণদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভোটার, প্রার্থী ও প্রচারণা কর্মী- সব দিক থেকে এবার নির্বাচনে মাঠ দখল করে রেখেছে তারুণ্য। দেশের ২২ শতাংশ ভোটারের বয়স ১৮ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। আর প্রথমবারের মতো নিজেদের ভোট দেওয়ার অধিকার অর্জন করবেন ১ কোটি ২৩ লাখ। এক কোটি তরুণ ভোটার অবশ্যই চাইবে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। এসব তরুণকে অনুকূলে পেতে হলে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে হবে। দেশে বেকারের সংখ্যা বেশি, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকট হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো তরুণদের কর্মসংস্থান করতে কি কি পদক্ষেপ নেবে, তার দিকে তাকিয়ে আছে তরুণ সমাজ। তরুণ প্রজন্মের ভোটাররা চাকরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিয়োগসূত্রিতা কমানো এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি চান। তরুণদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, উদ্যোক্তা হওয়ার পরিবেশ বিনির্মাণে ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দিলে তরুণদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। আর এই তরুণ ভোটারদের যে দল বা জোট যত বেশি নিজেদের অনুকূলে রাখতে পারবে, তারা তত বেশি লাভবান হবে। আমরা জানি, নতুন নেতৃত্ব নতুন বার্তা নিয়ে আসে। এই তরুণরাই নতুন আলো নিয়ে আসে। নির্বাচন হলো জনগণের একদিনের গণতন্ত্রের উত্সব। জনগণের এই উত্সব তখনই সফল হবে যখন তারা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তার পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন। মানুষ তার স্বপ্নের মতো বড় - আর তরুণদের স্বপ্নকে সঠিক পথে যাতে বাস্তবায়িত হয় সেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তরুণরা তাদের আইডিয়াগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে বিনা বাধায় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর রাজনীতিতে তরুণদের মেধা, সময়োপযোগী ভাবনা, চিন্তা চেতনার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। তরুণদের আধুনিক চিন্তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। বর্তমানে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অনেক বেশি গতিশীল। রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্রের নাগরিকরা যাতে বিনা বাধায় এগিয়ে যেতে পারে, তরুণ প্রজন্ম যাতে তাদের সর্বোচ্চ গতিতে ছুটতে পারে, রাষ্ট্রের সিস্টেম কি সেটাই নিশ্চিত করতে হবে। উন্নত ও পজিটিভ রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকারনামা বা নির্বাচনী ইশতেহার জাতির সামনে আনতে হবে। তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনীর পথগুলো সহায়ক হবে, রাষ্ট্র যত নিজে উদ্ভাবনী রাষ্ট্র হবে তার একটি চূড়ান্ত রূপরেখা রাজনৈতিক দলকে জাতির সামনে আনতে হবে। সারাদেশে অনুসন্ধিত্সু, উজ্জ্বল ও প্রতিভাবান ছেলেমেয়েদের চেতনাজগত বিকশিত করে এবং এর পাশাপাশি নানা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে তরুণরা যেন তাদের হূদয়কে স্নিগ্ধ, সজীব, উত্কর্ষময় করে তুলতে পারে এবং সমৃদ্ধ ও উন্নত মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পথকে বিকশিত করার কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। তাই বলতে হয় যে, তরুণরা এখন বের হয়ে এসেছে,তারা এখন বুঝে গেছে—প্রত্যাশা ও আশার মধ্যে এখন থাকার সুযোগ নাই। তারা নিজেরাই এখন দায়িত্ব নিতে চান। তাই আমাদের প্রত্যাশা, যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে ও বাংলাদেশের জন্ম সেই স্বাধীন দেশকে আমাদের এই তরুণ প্রজন্ম আরো অনেক বড় জায়গায় নিয়ে যাবে।

n লেখক:শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়