কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক
রফিকউদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
বিভিন্ন অংশে ভেঙে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া, সড়কের ৭৯ কিলোমিটার নির্মাণ ও সম্প্রসারণে ঠিকাদার নিয়োগের ৬ মাসেও ন্যূনতম কাজ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যানবাহন চালক ও ব্যবসায়ীরা।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১০ টন ওজনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা এদেশে আশ্রয় নিলে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আরকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি, লাইন সম্পাদক মো. শাহজাহান ও জালাল উদ্দিন এক যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিকদের জানান, পণ্যবাহী ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চলাচলের কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক। দীর্ঘসময় ধরে সড়কের বেহাল দশার কারণে তাদের যানবাহনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে টেকনাফ বন্দর দিয়ে আসা মিয়ানমারের পণ্যসামগ্রী ঢাকা-চট্টগ্রামের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে সময়ের অপচয় হলেও তারা সে অনুপাতে পরিবহন ভাড়ার টাকা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
টেকনাফ বন্দরে ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী নাইমুল ইসলাম সিকদার জানান, সড়কটির এমন অবস্থায় পৌঁছেছে এটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করলে মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে যাত্রা করতে হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক উখিয়া শাখার সভাপতি নুর মো. সিকদার জানান, বর্ষাকালে সড়ক সংস্কারের কাজ করা মানে একটি দুরভিসন্ধিমূলক ব্যাপার। তিনি অবিলম্বে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান।
সড়কের মরিচ্যা থেকে পালংখালী পর্যন্ত ঘুরে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারীরা মাঝে-মধ্যে ইটের টুকরা দিয়ে গর্ত ভরাট করলেও তা যানবাহন বা যাত্রী সাধারণের কোনো উপকারে আসছে না। বরং ঐ গর্তগুলো মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, আগামী ৩ মাসের মধ্যে সড়ক নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।