নকিয়া ৯-এর ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার অনিরাপদ

মোজাহেদুল ইসলাম

 

এইচএমডি গ্লোবালের সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ ফোন নকিয়া পিওরভিউ। পেন্টা ক্যামেরার মতো তাদের অনেক বিশেষ ফিচার রয়েছে। যাই হোক, ডিভাইসটি এমনভাবে ব্যবহারকারীদের অবাক করে দিয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা সন্তুষ্ট নাও হতে পারে। নকিয়া ৯-এ ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার ব্যবহার করা অনেক অধিকাংশ ব্যবহারকারীদের জন্য কষ্টকর একটি ব্যাপার ছিল। সম্প্রতির আপডেটটি আগের তুলনায় ব্যবহার অভিজ্ঞতাকে আরো সহজ করতেই করা হয়েছে। এক্সডিএ ডেভেলপার ডটকমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের আঠার সাহায্য নিয়েও এ ফোনটি আনলক করা সম্ভব।

এক জন নকিয়া ৯ ব্যবহারকারী, ‘ডিকোডেড পিক্সেল’ শিরোনামে  সম্প্রতি টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিও পোস্টে দেখানো হয়েছে, কীভাবে অনিবন্ধিত ফিঙ্গারের প্রিন্ট ও ফিঙ্গার প্রিন্ট ছাড়া ফোনটি আনলক করা যায়। সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার হলো, ঐ ব্যবহারকারী চুইংগামের সাহায্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানারকে বোকা বানিয়েছে।

 

২০১৯ সালে কোনো ভালো ফোন বানাতে পারেনি এইচএমডি গ্লোবাল

সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েডসেন্ট্রাল ডটকমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেও এইচএমডি গ্লোবার নকিয়া ব্র্যান্ডের কোনো ভালো অ্যান্ড্রয়েড ফোন বানাতে সক্ষম হয়নি। এর আগেএইচএমডি গুগলের সঙ্গে একত্রিত হয়ে কাজ করছিল। সম্প্রতির ফোনগুলোয় তারা অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন জুড়ে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্যবহারকারীদের। ফলে নকিয়া তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের জন্য গবেষণা বিনিয়োগের যথেষ্ট সময় পায়নি। এ কারণেই তারা নতুন ফোন উন্মুক্ত করতে অনেক সময় নেয়। প্রতিষ্ঠানটি অনেক ব্যস্ত সময় পার করেছে। এ পর্যন্ত নকিয়া ২৫টির মতো অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে উন্মুক্ত করেছে। বিশ্বব্যাপী কয়েকটি ফোনের নতুন সংস্করণও উন্মুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যা কিছু করেছে এতে তারা সময় নিয়েছে ৩০ মাসের মতো। এইচএমডি ভারত ও চীনের মতো বড়ো বাজারগুলোসহ উদীয়মান বাজারগুলোতে বিনিয়োগ বেশি করছে এবং এই বাজারগুলোতে নকিয়া তাদের নাম ধরে রাখতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু নকিয়া ফোন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এশিয়ার মার্কেটগুলোতে তাদের দৃষ্টি রয়েছে।

সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে নকিয়া ৮.১ ও নকিয়া ৭ প্লাস

গত দুই বছরে নকিয়া বেশ কয়েকটি ফোন বাজারে উন্মুক্ত করেছে। তবে মনে হচ্ছে, তাদের সেই প্রাথমিক গতিতে ভাটা পড়েছে। এ বছর তাদের ফোনগুলোর আপডেট ও ফ্ল্যাগশিপ ফোন আনার মধ্যদিয়েও সন্তোসজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। গত বছরের তুলনায় এ বছর কিছুটা ভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। নকিয়া ৭ প্লাস বাদ দিয়ে নকিয়া ৮.১ বাজারে এনেছিল। ২০১৮ সালে নকিয়া ৭ প্লাস সেরা ফোন ছিল। অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনে আগমনের এটি ছিল সফল একটি ফোন। এটির নকশা, অভ্যন্তরীণ হার্ডওয়্যার এবং পরিষ্কার অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন ছিল প্রশংসনীয়। হাস্যকর বিষয় হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই ফোনটি অফিশিয়ালভাবে বিক্রি হয়নি।