তুমি হাসলেই হাসে বাংলাদেশ

মো. জাহানুর ইসলাম

বাংলাদেশের পরম সৌভাগ্য যে, এদেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো ভিশনারি, কর্মঠ ও প্রচণ্ড সত্ এমন বিরল নেতা পেয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের বা উন্নয়নশীল দেশে শেখ হাসিনার মতো একজন নেতা দেশকে কীভাবে দ্রুত এগিয়ে নিতে পারেন তা শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতেই পারবে না। দেশের প্রধানমন্ত্রী সত্ ও আন্তরিক থাকলে যে কোনো দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব—তার জ্বলন্ত প্রমাণ আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বার বার এই একটি কথাই বলে থাকেন, আমরা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছি, তাই কোনো বিজয়ী জাতি কখনো মাথা নত করে থাকতে পারে না। এই একটি মন্ত্রই শেখ হাসিনার হয়তো মূলমন্ত্র। তিনি টানা তিনবারসহ চার চারবারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের আমূল অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন করেছেন। এক সময় দেশে চরম দুর্ভিক্ষ ছিল, ছিল ঘরে ঘরে হাহাকার, মানুষ আশ্রয় নিত ফুটপাতে, রেল স্টেশনের পাশে, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছিল চরম ঘাটতি, হতদরিদ্র মানুষকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হতো, সমাজে বিরাজ করত বিরাট বৈষম্য। এখন কিন্তু আর সেই আগের অবস্থা নেই। সব কিছুতে পরিবর্তন হয়েছে। দেশ আর্থসামাজিক সূচকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যাশাজনক সাফল্য অর্জন করেছে এবং বৃদ্ধি পেয়েছে মাথাপিছু আয়ও। মেগা প্রকল্পগুলোর কাজও অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। নিজস্ব অর্থে পদ্মার ওপর ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করার সাহস দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পরও এই প্রকল্প হাতে নেওয়ায় অনেক দেশ ও সংস্থা সন্দেহ ও বিস্ময় প্রকাশ করলেও সে স্বপ্ন এখন দৃশ্যমান। শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছে এই বাংলাদেশ আর আগের বাংলাদেশ নেই, বাংলাদেশ পারে। সম্পূর্ণ দেশের টাকায় বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো মেগা প্রজেক্ট এই পদ্মা সেতুর কাজ এরই মধ্যে অর্ধেক শেষ হয়েছে। ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ কমাতে মেট্রোরেল নির্মাণের কাজও চলছে ভালোভাবেই। এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে, যাতায়াতের ক্ষেত্রে ঢাকাবাসীর ভোগান্তি আর থাকবে না। সত্যি বলতে ‘অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য দেখিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব।

বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের ফানুস উড়িয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুত্, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রীড়া, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন—এমন কোনো খাত নেই যে খাতে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি, মাতৃত্ব এবং শিশুস্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত। কথিত তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিত্সার দায়িত্ব পালন করছে। সত্যি বলতে এ সবকিছুই সম্ভব হয়েছে কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে। দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।

বার বার মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া নেতৃত্ব বর্তমান বিশ্বে বিরল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে উলটোপথে চলা বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ কখনো মসৃণ ছিল না। আর শেখ হাসিনাকে পথ চলতে হয়েছে আরো কঠিন বন্ধুর পথে। তবুও তিনি পিছপা হননি তার লক্ষ্য থেকে। বর্তমান বিশ্ব এখন একটি বৈশ্বিক গ্রাম। আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য সবার সঙ্গে মিলে চলতে হবে। শেখ হাসিনা সবসময় এ কথাটিই মনে করিয়ে দেন এবং দেশের স্বার্থে তিনি করেনও তাই। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন জীবনভর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। তার রক্তের যোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একই পথের যাত্রী। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এক বিরাট বিস্ময় বিশ্ববাসীর কাছে। তিনি তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। টাইম ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বিশ্বের প্রভাবশালী ১০ নারী নেত্রীরও একজন মনোনীত হয়েছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা সবসময় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আসলে তিনি যেখানেই হাত দিয়েছেন, সেখানেই ফুল ফুটেছে। তিনি যখনই হেসেছেন, তখনই হেসেছে বাংলাদেশ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়