বকেয়া বেতন-ভাতার দাবি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বকেয়া বেতনের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন জারা জিন্স নামে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল রবিবার সকাল ৯টায় তারা মিরপুর-১ সনি সিনেমা হলের সামনের সড়কে নামেন। বিকাল ৪টা পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে সাত ঘণ্টা চিড়িয়াখানা সড়ক ও মিরপুর-১ থেকে মিরপুর-১০ নম্বর যাওয়ার সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে আশপাশে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। বিকাল ৪টায় পুলিশ পোশাক কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের বৈঠকে বসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। এর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগেও গত মাসের শুরুতে একই কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন।
শাহআলী থানার ওসি সালাউদ্দিন মিয়া জানান, চিড়িয়াখানা সড়কের মল্লিক টাওয়ারের জারা জিন্স নামে তৈরি পোশাক কারখানাটি আগস্টের প্রথম দিকে বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেনি। বেতনের দাবিতে গতকাল সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকেরা সনি হলের সামনের মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ঐ এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকাল ৪টায় মালিকপক্ষের সঙ্গে কারখানায় শ্রমিকদের বৈঠকের ব্যবস্থা করে দিয়েছি আমরা। এরপরই তারা সড়ক থেকে সরে যান।
বিক্ষোভে থাকা সালমা নামের একজন সুইং অপারেটর বলেন, ‘আমাদের চার মাসের বেতন, দুই মাসের ওভারটাইম বাকি। বেতন না দিয়ে গত বৃহস্পতিবার মালিকপক্ষ কারখানায় তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। মালিকের মোবাইল ফোনও বন্ধ। আয়েশা নামের আরেক কর্মী বলেন, ‘ঈদের আগেও আন্দোলন করে বেতন আদায় করতে হয়েছে তাদের। আমরা বিজিএমইএর কাছে গিয়েছিলাম গত বুধবার। তারা বলছে, শনিবার সমাধান করবে। শনিবার বিজিএমইএ অফিসে গেলাম, কিন্তু কেউ কথা বলে নাই। এ জন্য বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি দাবি আদায়ের জন্য।’
কারখানার নিরাপত্তা কর্মী মোহাম্মদ ফিরোজকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘মালিকপক্ষের কেউ কারখানায় নেই। গত ১০ তারিখে মালিকপক্ষের লোকজন কারখানায় তালা দিয়ে দিয়েছে। শনিবার কারখানা খুলে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দেয় নাই। আমরা শুধু বাইরে দেখাশোনার জন্য আছি। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’ সুমন নামে আরেক কর্মী বলেন, ‘বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে আমরা গত কোরবানির ঈদেও আন্দোলন করেছি, বাধ্য হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছিলাম। গত বুধবারও আমরা এ নিয়ে বিজিএমইএর কাছে গিয়েছিলাম। শনিবার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যত কোনো ফল আমরা পাইনি।’