আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করেছেন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী। স্বেচ্ছাচারিতা, নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপেক্ষা, বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠন ও নৈতিক স্খলনের কারণে পদত্যাগে বাধ্য হন তারা।
গোলাম রাব্বানী ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও সিনেটের নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। অপরদিকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি। নৈতিক স্খলনে অব্যাহতি পাওয়ায় এদের দায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নৈতিক স্খলনের কারণে শোভন-রাব্বানীকে ডাকসু এবং সিনেট থেকে পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করেন ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম। তিনি বলেন, তাদের নৈতিকতার অভাব ও দেশের স্বার্থের জন্য পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তাদের অনুতপ্ত হওয়া উচিত। এ বিষয়ে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের সূত্রপাত হয়। দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের দায়ে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বে থাকতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে ডাকসুর ভিপি হিসেবে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অভিযোগ জানাতে বলেছেন। আমাদের অভিযোগ জানানোর আগে নৈতিক স্খলনের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ায় তাদের পদত্যাগ করা উচিত।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ঐ দুজনের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি জানাক। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’