মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে আছেন তিনজন বিশ্বমানের পেসার। স্পিন বিভাগে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের যুগলবন্দিও এখন পরীক্ষিত। দেশে, দেশের বাইরে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের কার্যকারিতা প্রমাণিত।
একের পর এক সাফল্যের ভিত গড়ে দিচ্ছেন বোলাররা। জয়ও আসছে ধারাবাহিকভাবে। বল হাতে রুবেল-সাকিবরা উইকেট শিকার করছেন, প্রতিপক্ষ শিবিরে ভীতি ছড়াচ্ছেন, কৃপণ বোলিং করছেন। কিন্তু এমন দাপুটে বোলিংয়ের পরও কিছুটা অপূর্ণতা থেকেই যাচ্ছে বাংলাদেশের বোলিংয়ে। তা হলো প্রতিপক্ষকে অলআউট করার কাজটা সম্পন্ন করতে পারছে না বাংলাদেশ। সর্বশেষ নয় ম্যাচে (গতকাল সহ) প্রতিপক্ষ শিবিরকে গুটিয়ে দিতে পারেনি টাইগাররা।
গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে শেষবার প্রতিপক্ষকে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা অলআউট হয়েছিল ১২৪ রানে। তারপর নয় ম্যাচে বোলাররা পারেননি প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের লেজ গুটিয়ে দিতে। অবশ্য এই নয় ম্যাচের ছয়টিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল যেমন মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৯৫ রানে আটকে দিয়েছেন মুস্তাফিজ-মিরাজরা। কিন্তু পুরো ৫০ ওভারে ক্যারিবিয়ানদের নয় উইকেট নিতে সমর্থ হয়েছেন তারা। অথচ ১২৭ রানেই উইন্ডিজদের ছয় উইকেটের পতন ঘটেছিল। সপ্তম উইকেটে ৫১ রান যোগ করেছে সফরকারীরা।
প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে না পারলেও ম্যাচ জেতায় স্বস্তি পাচ্ছেন মাশরাফি। ম্যাচ জেতার মতো অবস্থায় যেতে পারছেন বলেই অধিনায়কের কাছে বড় চিন্তার বিষয় নয় বোলিংয়ের এই অপূর্ণতা। ঘরের মাঠে সর্বশেষ সিরিজে জিম্বাবুয়েকে তিন ম্যাচের একটিতেও অলআউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে সিরিজটা ঠিকই ৩-০ তে জিতেছিল স্বাগতিকরা।
গত শনিবার মিরপুর স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে নড়াইল এক্সপ্রেস বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ ওদের (জিম্বাবুয়ে) কোনো ম্যাচে আমাদের অলআউট করতে পারেনি। তবে ম্যাচ জেতার জন্য যা করা দরকার সেটা করতে পেরেছি। আপনি ম্যাচটা কিভাবে জিতেন সেটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। একই সঙ্গে কিছু পরীক্ষা ছিল। রুবেল ছিল না। সে এশিয়া কাপে সেরা বোলার ছিল। অবশ্যই আদর্শ হচ্ছে অল আউট করতে পারা। কিন্তু সেটা হয়নি, কিন্তু দিন শেষে আমরা ওদের এমন জায়গায় রাখতে পেরেছি যেখান থেকে ম্যাচ জেতা সম্ভব।’
এশিয়া কাপে আফগানদের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচে সাতটি করে, ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচে তিনটি ও সাতটি, পাকিস্তানের নয়টি উইকেট তুলে নিতে পেরেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচে নয়টি, সাতটি ও পাঁচটি উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি-মিরাজরা। প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে কম-বেশি কোণঠাসা করেছেন বোলাররা। কিন্তু মিশনটা শেষ করতে পারেননি।
গতকাল ২৯ রানে কাইরেন পাওয়েলকে ফেরান সাকিব। তারপর মাশরাফির জোড়া শিকারে পরিণত হন ড্যারেন ব্র্যাভো ও শাই হোপ। ৭৮ রানে তিন উইকেট হারায় উইন্ডিজরা। পরে হেটমায়ারকে টানা পাঁচ ম্যাচে পঞ্চমবার আউট করেন মিরাজ। রোভম্যান পাওয়েল মাশরাফির, স্যামুয়েলস রুবেলের শিকার হলে ১২৭ রানে ছয় উইকেটের পতন হয়। ওই বিপর্যয় মুখর অবস্থান থেকেই দুইশ’ ছুঁইছুঁই স্কোর গড়ে ফেলেছে সফরকারী দল।
সপ্তম উইকেটে রোস্টন চেজ-কিমো পলের যুগলবন্দিতে এগিয়েছে ক্যারিবিয়ানদের স্কোর। চেজ ৩২, কেমু পল ৩৬ রান করেন। ৪৮তম ওভারে চেজকে ফেরান মুস্তাফিজ। ইনিংসের শেষ ওভারে কেমু পল, দেবেন্দ্র বিশুও এই বাঁহাতি পেসারের শিকার হন। বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি ৩০ রানে তিনটি, মুস্তাফিজ ৩৫ রানে তিনটি, সাকিব, মিরাজ, রুবেল একটি করে উইকেট পান।