স্বাধীনতা কাপ থেকেও মোহামেডানের বিদায়

স্পোর্টস রিপোর্টার

শুধুই নিচের দিকে নামছে মোহামেডান ফুটবল দল। ফেডারেশন কাপের পর এবার স্বাধীনতা কাপ ফুটবলেরও গ্রুপ পর্ব থেকে তাদের বিদায় ঘটলো। এবার আরো লজ্জা নিয়ে। গতকাল বিকালে গ্রুপ পর্বের খেলায় রহমতগঞ্জ যখন নোফেলকে ৩-০ গোলে হারায় তখনই মোহামেডানের বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

মাঠে নামার আগেই মোহামেডানের ফুটবলার এমিলি, মিঠুন, তকলিস, ইউসুফ সিফাত পাশবন মোল্লা, গোলকিপার ইশতিয়াক, অনিক ঘোষ, খোকন মিয়ারা নিশ্চিত হয়ে যান কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার দরজা প্রায় বন্ধই হয়ে গেল। কারণ অঙ্কের হিসাবে মোহামেডান ৩-০ গোলে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে। এই সমীকরণ নিয়ে লড়াই করতে নামা মোহামেডান তিন গোল তো দূরের কথা চট্টগ্রাম আবাহনীর জালে একবারও বল জড়াতে পারেনি।

চট্টগ্রাম আবাহনী আগেই দুই খেলায় ৬ পয়েন্ট পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল। এ কারণে দলটি এদিন নিয়মিত একাদশের আট ফুটবলারকে বিশ্রাম দিল। সাইড বেঞ্চে যারা ছিলেন তাদের নিয়েই মোহামেডানের বিপক্ষে নামল চট্টগ্রাম আবাহনী। তারপরও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি মোহামেডান। সবচেয়ে দুর্বল দল নিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী একটা সুযোগই দিয়েছিল বলা যায়। কিন্তু মোহামেডানের সেই সামর্থ্য কোথায়।

স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের প্রথম টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান, ১৯৭২ সালে। এরপরও একাধিকবার ট্রফি নিয়ে গেছে সাদাকালো জার্সিধারীরা। কিন্তু এখন মোহামেডান ফুটবল দলের রং বিবর্ণ হয়ে গেছে।

কাল রাতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে জনা পঞ্চাশেক মোহামেডান দর্শক খেলা দেখেছেন। এরা বরাবর মোহামেডানের খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে ছুটে আসেন। হার দেখলে চিত্কার করেন। কিন্তু কালকের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। লজ্জার বিদায়ের পরও তারা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া টু শব্দটিও করেননি।

গত ১৩ জানুয়ারি শেষ হয়েছে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। পঞ্চম স্থান পেয়ে মোহামেডান অভিযান শেষ করে। লিগের শেষ দুটি খেলা থেকে শুরু করে ফেডারেশন কাপ এবং স্বাধীনতা কাপ মিলিয়ে ১০ খেলায় জয় পেয়েছে মাত্র দুটিতে। এদিন ড্র করে এমিলি বলছিলেন,‘বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে আমরাই ভালো খেলেছি। নোফেল ক্লাবকে আমরা হালকাভাবে নিয়েছিলাম। সেই হারটাই আমাদের বিদায় করে দিয়েছে।’ মিশু বললেন,‘আমরা তিন খেলায় একটা গোল করতে পারিনি। আর আজকে এক খেলায় তিন গোল করব। কিভাবে আশা করেন।’

কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি

১০ ডিসেম্বর ঃ আরামবাগ ও ব্রাদার্স

১১ ডিসেম্বর ঃ চট্টগ্রাম আবাহনী ও শেখ রাসেল

১৩ ডিসেম্বর ঃ আবাহনী ঃ সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব

১৪ ডিসেম্বর ঃ বসুন্ধরা কিংস ও রহমতগঞ্জ