চার ওপেনার পাঁচ পরিবর্তন

স্পোর্টস রিপোর্টার

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কথাতেই এমন একাদশের আভাস ছিলো।

অধিনায়ক পরিষ্কার করে বলেছিলেন, তিনি কমপক্ষে তিন পেসার খেলাতে চার। সেই সাথে বারবার বলেছিলেন, ইনফর্ম কোনো খেলোয়াদের আত্মবিশ্বাসে আঘাত করতে চান না বলে ১৬ সদস্যের স্কোয়াড করেছেন তারা। ইনফর্ম চার ওপেনারেরই আত্মবিশ্বাস ঠিক রাখার সে ক্ষেত্রে একটাই উপায় ছিলো—চারজনকেই একাদশে রাখা। তাই করলো বাংলাদেশ। ফর্মে থাকা ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, লিটন দাসকে রেখে দেওয়া হলো একাদশে। সেই সাথে যোগ হলেন ইনজুরির কারণে বাইরে থাকা ‘অটোমেটিক চয়েজ’ তামিম ইকবাল।

ফলে বাংলাদেশ কার্যত চার ওপেনার নিয়ে দল সাজালো গতকালকে। এর মধ্যে সত্যি সত্যি ইনিংস শুরু করলেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। বাকী দুইজনকে যার যার অভ্যস্ত পজিশন ছেড়ে খেলতে হলো। স্রেফ এই চার ওপেনারকে নিয়ে দল করাটাই বৈশিষ্ট্য নয়। সেই সাথে দলে ছিলো পাঁচটি পরিবর্তন। 

সর্বশেষ খেলা ওয়ানডের থেকে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে এই ম্যাচ খেলতে নামলো বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে  সিরিজের শেষ ম্যাচে খেলা মোহাম্মদ মিঠুন, নাজমুল ইসলাম অপু, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আরিফুল হক এই ম্যাচে সুযোগ পাননি। গতকাল সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের ফেরাটা ছিলো অপরিহার্য। এই দুইজন এশিয়া কাপের পর থেকে ইনজুরির জন্য বাইরে ছিলেন। সাকিব এর মাঝে টেস্টে ফিরেছেন। গতকাল ওয়ানডেতে একসাথে ফিরলেন সাকিব ও তামিম। এ ছাড়া একাদশে জায়গা করে নিলেন মুস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও রুবেল হোসেন।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে তিন ম্যাচে ৩৪৯ রান করেছিলেন ইমরুল কায়েস। ওই সিরিজেই এক ম্যাচে ৮৩ করেছিলেন লিটন দাস এবং এক ম্যাচে সুযোগ পেয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন সৌম্য সরকার। সৌম্য এরপর প্রস্তুতি ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেছেন। ফলে এদের কাউকে স্কোয়াডের বাইরে রাখাটা কঠিন সিদ্ধান্ত ছিলো। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেছিলেন, ‘আমাদের ১৬ জনের স্কোয়াড আছে। আপনি যদি ওইভাবে দেখেন যে নরমালি হোমে সাধারণত ১৪ জন রাখা হয়; বা ম্যাক্সিমাম ১৫ জন রাখা হয়। সেখানে ১৬ জন রাখার কারণ যাতে তাদের কনফিডেন্স ডাউন না হয়, মনিটরিং করা। এই জায়গায় এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে কজন রিসেন্টলি ভালো খেলেছে বা খেলছে তাদেরকে রাখা।’

এই চারজনকে তাই শেষ পর্যন্ত একাদশেও রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যানেজমেন্ট। সেই সাথে তিন পেসার খেলিয়ে যাওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

টেস্টে বাংলাদেশ চার স্পিনার নিয়ে খেলেছে। শেষ টেস্টে পেসারই ছিলো না দলে। সেখানে হুট করে ওয়ানডেতে আবার তিন পেসার খেলানোর ব্যাপারে মাশরাফি আগের দিনই বলে রেখেছিলেন, ‘তিনজন ফাস্ট বোলার নিয়ে এমনকি ফ্ল্যাট উইকেটেও আমরা খেলেছি। আর ওয়ানডে ক্রিকেটে স্পিনের একটা ডিসঅ্যাডভান্টেজ আছে কারণ ৪০ ওভার পর্যন্ত পাওয়ার প্লে থাকে। যখন পাঁচটা ফিল্ডার উপরে থাকে তখন স্পিনে মারা খুব ইজি। ফাস্ট বোলিং থাকলে হয় কি আপনি যেকোনো এক জায়গা ব্লক করে বল করতে পারেন। তবে আমাদের সাফল্যের হার ফ্ল্যাট উইকেটেও পেস বোলারদের বেশি। কাজেই ওদিকটা খেয়াল রাখা জরুরি।’