গোল মিসের আফসোসে পুড়ছে ফুটবলাররা

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬

নারী ফুটবল

 স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রথমার্ধে পাওয়া অন্তত একটা সুযোগও যদি কাজে লাগানো যেত, তাহলে ম্যাচটা ঘুরেও যেতে পারত, হয়তো হারতে হতো না। এখন সেই আফসোসে পুড়ছেন দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন, স্ট্রাইকার তহুরা, আনুচিং মগিনি, সাজেদারা। এই তিন ফুটবলার থাইল্যান্ডের বিপক্ষে গোল মিস করেছেন। রবিবার রাতে চুনবুরিতে অনুষ্ঠিত খেলায় থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। গ্রুপের অন্য দুই দল জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় থাইল্যান্ড ছিল কিছুটা কম শক্তির দল। বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল ভালো কিছু করার। হাতছানি ছিল ভালো কিছু তুলে আনার। থাইল্যান্ডের চুনবুরি স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইটের উজ্জ্বল আলোয় বাংলাদেশের নারী খেলোয়াড়েরা দারুণ শুরু করেছিলেন। গোলের সুযোগও খুঁজে বেরে করেছিলেন। টিভির পর্দায় দেখা গেছে, থাই কিশোরীদের ওপর দিয়ে আক্রমণের ঝড় বইয়ে দিচ্ছেন মনিকা, মারিয়া মান্ডা, সামসুন নাহার, তহুরা খাতুনরা। গোল পাওয়াটা ছিল সময়ের ব্যাপার। গোলের দরজা খুলতে খুলতেও যেন মুখ থুবড়ে পড়ল। ভাগ্যটাও বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। খেলোয়াড়দের দোষ দিয়েই বা কী হবে? বাংলাদেশের শট থাই গোলকিপার পাওয়ারিসা দারুণভাবে থামিয়ে দিয়েছেন একাধিকবার। গোলকিপারকে কাটিয়েও গোল করতে পারেননি। বাংলাদেশের শট ক্রসপিসে লেগে ফেরত এসেছে। আনুচিংয়ের শটে গোল হয়নি। তহুরাও গোল মিস করেছে তারা নিজেদের অপরাধী মনে করছেন। ১-০ গোলে হেরে খেলাটা যখন শেষে হয়, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের চোখে তখন পানি। সবার কথা, একটা সুযোগ কাজে লাগলে খেলাটার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে আসত।

বিরতির সময় ড্রেসিং রুমে কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন খুব করে বুঝিয়েছেন কী করতে হবে। দলের সঙ্গে থাকা বাফুফের অস্ট্রেলিয়ান টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর পলস্মল নতুন করে কাগজে-কলমে এঁকে বুঝিয়ে দিয়েছেন থাইল্যান্ডকে বশ করা সম্ভব। সেই মন্ত্রটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন কোচিং স্টাফ। মাঠে নেমে প্রথমার্ধের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেও বিপদে পড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি বাংলাদেশের। বাংলাদেশ যখন গোলের পর গোল মিস করেছে, তখন ভাগ্যের পাল্লা থাইল্যান্ডের দিকে ঝুঁকে গেছে। পালটা আক্রমণে পেনাল্টি পেয়েছিল থাইল্যান্ড। ভাগ্য ভালো, বল বাইরে গেছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সর্বনাশ ডেকে এনেছে নিজেরাই। ফ্রিকিক দিয়েছে থাইল্যান্ডকে। সেটপিসের বলে বিপদ ঘটতেই পারে, সেটি গোল হজম করে বুঝতে পারেন আঁখী, নাজমা, নীলা, সামসুন নাহাররা। বলটা সবার মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গোলকিপার রূপনা চাকমার চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশের জালে গোল হয়। সুন্দর ফ্রিকিক, এ ধরনের সেটপিসের বলে গোল হওয়ার ছবিটাও দৃষ্টিনন্দন। কোচ ছোটন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একটা ছোটো ভুলের মাশুল দিয়ে গোল হজম করতে হয়েছে। গোল হজমের পরও বাংলার অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলাররা খেলার শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছেন ড্র করার জন্য।

বাংলাদেশ যদি জিতে যেত, তাহলে সাফের দল হিসেবে বাংলাদেশই প্রথম জয় পেত। এমন হাতছানি ছিল মারিয়া মান্ডাদের সামনে। 

এখন বাংলাদেশের সামনে আরো কঠিন লড়াই। আগামীকাল জাপানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ। শনিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। ২০২০ সালে ভারতে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপ ফুটবল। এশিয়ার সেরা আট দেশের মধ্যে দুটি দেশ চূড়ান্ত পর্বে খেলবে।