স্পোর্টস ডেস্ক
পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের জন্য যথেষ্ট কি না, সেটা খতিয়ে দেখবে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। আসছে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
এর আগেই আইসিসি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে পাকিস্তানের। সিরিজটা মূলত পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা—দুই দেশের সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আয়োজিত হচ্ছে। তাই, সেখানে আইসিসির খুব বেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। কিন্তু আইসিসির দুশ্চিন্তা ম্যাচ অফিসিয়ালদের নিয়ে। তাই ম্যাচ অফিসিয়াল নিয়োগ দেওয়ার আগে পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া সংস্থাটির জন্য খুবই জরুরি।
পাকিস্তান থেকে উর্দু ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক ডেইলি জাং জানিয়েছে, আইসিসি আসন্ন এই সিরিজে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নিরাপত্তাবিষয়ক পরিকল্পনার ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়ে তবেই আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের দায়িত্ব দেবেন।
২০০৯ সালে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের বাইরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের টিম বাসে ১২ জন বন্দুকধারী হামলা করে। ছয় শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার আহত হন। ছয় জন পাকিস্তানি পুলিশসহ মোট আট জন সেদিন সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ হারায়। সেই ঘটনার জের ধরে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন নিষিদ্ধ হয়ে যায়। বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগও হারায় পাকিস্তান।
সেই হামলার দীর্ঘ ছয় বছর পর ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ে দল পাকিস্তান সফর করে। যদিও, সেই টি-টোয়েন্টি সিরিজে কোনো নিরপেক্ষ আম্পায়ার বা ম্যাচ রেফারিকে নিয়োগ দেয়নি আইসিসি। এরপর ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা ও ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাকিস্তানে গিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে আসে। দুবারই ভিনদেশি ম্যাচ রেফারি দায়িত্বে ছিলেন।
আর এবার টি-টোয়েন্টির সঙ্গে ওয়ানডে ফরম্যাটও থাকায় ম্যাচ রেফারির সঙ্গে নিরপেক্ষ আম্পায়ারও নিয়োগ দিতে হবে আইসিসিকে। কারণ, নিয়ম অনুযায়ী টি-টোয়েন্টিতে নিরপেক্ষ আম্পায়ার বাধ্যতামূলক না হলেও ওয়ানডেতে সেটা বাধ্যতামূলক। সেজন্যই আইসিসি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে।
এর পেছনে আরেকটা কারণও অবশ্য আছে। লঙ্কান সরকারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে যে, পাকিস্তানে গেলে তাদের ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে। এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ফের পর্যবেক্ষণ করতে চায় তারা। এমন অবস্থায়, জায়গাটা পাকিস্তান বলেই বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আইসিসিও।
এসএলসি এমনও জানিয়েছে যে, প্রয়োজনে তারা সফর বাতিলও করতে পারে। জবাবে, পিসিবি অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনোভাবেই এই সিরিজটা তারা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করবে না।
২৭ সেপ্টেম্বর থেকে করাচিতে শুরু হওয়ার কথা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর লাহোরে পাঁচ অক্টোবর থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এর আগে নিরাপত্তা বিষয় জটিলতা নিরসন না হলে সিরিজটাই বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে!