গঙ্গাচড়ায় ২৫ হাজার কৃষিশ্রমিক বেকার!

কেউ ছুটছে শহরে, বদল করছে পেশা

গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা

শহর থেকে কাজ করে ফেরার সময় কথা হয় উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে। একটি কাজ ৬০০ টাকায় চুক্তি নিয়ে দুই জনে শেষ করে দুপুরে বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনি এ সময় বলেন, গ্রামে তো এলা কাজ নাই। কাজের জন্য শহর যাই। তিনি দুঃখ করে বলেন, কাজ নিতে গেলেও দালালের মাধ্যমে যেতে হয়। দালাল কাজ চুক্তি করে নেয়। সেই কাজ আমাদের দ্বারা করায়। কাজ শেষে দালালকে টাকা দিতে হয়। কিংবা দালাল আগেই টাকা নিয়ে নেয়। আমাদের কম দাম দেয়। দালাল ছাড়া কাজ পাওয়া কঠিন। শহর থেকে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের ধামুর এলাকার বাতেন, সোহরাব ও আলমগীর। ১২ কিলোমিটার দূর থেকে রংপুর শহরে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে। সাইকেলের পিছনে বাঁধা ডালি ও কোদাল।

আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের দিনমজুর বাদশা মিয়া এখন ঝাড়ু বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। গজঘন্টা ইউনিয়নের কিসামত হাবু গ্রামের দিনমজুর আমজাদ হোসেন গ্রাম থেকে এসে শহরে কলা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে। ঐ গ্রামের আমিনুর রহমান এখন রিকশা চালায়। কুঠিরপাড় গ্রামের মহুবর, মোজাম্মেল, হামদ, তাজুল, ওমর গ্রামের খবিরসহ অনেকে এখন মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

হাবু কুঠিরপাড় গ্রামের হযরত আলী, মহাব্বত, আশেক আলী, কিসামত হাবু গ্রামের দিনমজুর মন্টু, মানিকুল, মোনজাব, মোজাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার কৃষি শ্রমিক এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের হাতে কোনো কাজ নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। অনেকে কাজের সন্ধানে ছুটছে শহরে। কেউবা পেশা বদল করেছে। ধার-দেনা কিংবা আগাম শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। অনেকে বাড়ির পোষা হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, গাছপালা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে।

শ্রমিকরা জানান, আমন ধান লাগানোর পর থেকে ২ মাস ধরে তাদের কাজ নেই। ধানের কাটামাড়ি আসতে এখনো ২ মাস লাগবে। এ অবস্থায় কঠিন জীবনযাপন করছে শ্রমিকরা। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে গজঘন্টা ইউনিয়নের কিসামত হাবু গ্রামে দেখা হয় বাদশা মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, এ সময় কাজ-কাম নাই, তাই উপায় না থাকায় মহাজনের কাছ থেকে ঝাড়ু কিনে নিয়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছি। এতে যা হয় তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাই।

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, আশ্বিন-কার্তিক মাস শ্রমিকদের কাজ না থাকায় এ সময় তাদের ঘরে ঘরে অভাব। এজন্য অবহেলিত নদীভাঙা মানুষ যাতে সারাবছর কাজ পায় সেজন্য গঙ্গাচড়ায় অর্থনৈতিক জোন নির্মাণ করা জরুরি। এটি এখন গঙ্গাচড়া মানূষের প্রাণের দাবি। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন।

 উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হতদরিদ্রদের কাজ শুরু হতে এখনো দেরি আছে।