পুলিশ ও দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাড়ি দখল চেষ্টার অভিযোগ

রাজধানীর রমনার সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় পুলিশের এক এএসপি এবং দুদকের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন চৌধুরী রাশেদ মাহবুব, তার বোন নাসিমা শেলী ও তাদের বৃদ্ধা মা নূরজাহান চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে চৌধুরী রাশেদ মাহবুব অভিযোগ করেন, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের মোশারফ গার্ডেন তাদের নিজেদের বাড়ি। ২০০৯ সালে সাত কাঠা জমির উপর ভবন নির্মাণের জন্য একটি ডেভেলপার কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ রেখে ডেভেলপার কোম্পানি তাদের অংশের ফ্ল্যাটসমূহ কিছু অসত্ দুর্নীতিবাজ লোকের কাছে বিক্রি করে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। ডেভেলপার কোম্পানির কাছ থেকে এএসপি ধীরেন মহাপাত্র ও দুদক পরিদর্শক একরামুর একটি করে ফ্ল্যাট কিনেন। তারাই এখন তাদেরকে চাপ দিচ্ছে যে জমির মালিকের পাওয়া সব কয়টি ফ্ল্যাট তাদের কাছে নাম মাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হোক। আর এ জন্য বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। গত ১৪ নভেম্বর রাতে ফ্ল্যাটের গ্যারেজে চৌধুরী রাশেদ মাহবুবকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়। সহকারী পুলিশ সুপার ধীরেন মাহাপাত্রের ছেলে প্রতীক মাহাপাত্র, সুকুমার চন্দ্র সাহাসহ ৪/৫ জন রাশেদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে রমনা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে রমনা থানার ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন রাতে তারা থানায় এসেছিল। এরপর তারা চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে গিয়ে আর থানায় মামলা করতে আসেননি। তবে চৌধুরী রাশেদ মাহবুব বলেন, তারা একাধিকবার থানায় গিয়েছিলেন; কিন্তু পুলিশ বলেছে কোর্টে মামলা করলে ভালো হয়।

এদিকে হাইওয়ে পুলিশের সহকারী সুপার ধীরেন মাহাপাত্র বলেন, ‘রাশেদ মাহবুব ভূমির মালিক। তারা ডেভেলপার দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করিয়েছেন। আমি ডেভেলপার থেকে একটি ফ্ল্যাট নেই; কিন্তু প্রথম থেকে দেখে আসছি, রাশেদ মাহবুবদের সঙ্গে ডেভেলপারদের সমস্যা। এখন আমরা ফ্ল্যাটের মালিকদের সঙ্গে তারা (রাশেদ) একটার পর একটা ঝামেলা সৃষ্টি করছে। যেহেতু দীর্ঘদিন আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে তাই রাশেদ পরিবার এ মিথ্যা অভিযোগ করছে।’