তদন্ত কমিটি গঠন
বরিশাল অফিস ও উজিরপুর সংবাদদাতা
বাসা ভাড়া নিয়ে ভাড়া পরিশোধ না করে উলটো বাড়িওয়ালাকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও উজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে থানার ওসিসহ অপর পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ আনেন ঐ নারী। সম্প্রতি রাশিদা বেগম (৫২) নামের ঐ নারীর হয়রানি থেকে রেহাই পেতে উজিরপুর পৌরসভার ইচলাদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কালাম হাওলাদার থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। উজিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করলেও রাশিদা বেগম তা না মেনে উলটো ঢাকায় বসবাসরত বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে মেয়ে অপহরণের অভিযোগ আনেন। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর রাশিদা বেগম জানান মেয়েকে তার মামার বাসায় পাওয়া গেছে।
রাশিদা বেগম জানান, প্রায় এক মাস আগে ঐ ভাড়া বাসা থেকে স্থানীয় কয়েক জন বখাটে তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ করলে আসামিরা মামা বাড়ি মাদারীপুরে রেখে আসে। এ সময় রাশিদা থানার ওসি শিশির কুমার পালকে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বললেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরবর্তী সময়ে ভাড়া বাসা ছেড়ে মাল-পত্র নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির কাছে সব কথা জানালে তিনি উজিরপুরের ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান, রাশিদা বেগম মেয়ে অপহরণের অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর রাশিদা জানিয়ে দেন মেয়ে ফরিদপুরের মামা বাড়িতে রয়েছে। বুধবার তার ভাড়া বাসার মালামাল বুঝে নেওয়ার জন্য থানায় আসলে তাকেসহ তার ছেলের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাশিদা বেগমের বাড়িওয়ালা স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাসরত কালাম হাওলাদার জানান, রাশিদা বেগম আমাকে অগ্রিম কোনো টাকা দেননি বরং আমি তার কাছে বাড়ি ভাড়া বাবদ সাড়ে তিন হাজার টাকা পাব। উলটো তিনি আমার সম্মানহানি করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে রাশিদা বেগম বিভিন্ন জায়গায় মাদারীপুর জেলার ঝাঠুদি ও হরিয়ানা গ্রামের হেলাল মাতুব্বর আবার কোথাও মাঈনুদ্দিন মাতুব্বরকে স্বামী পরিচয় দিচ্ছে।