আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সৌদি আরবের দুটি তেল উত্পাদন কেন্দ্রে জোড়া ড্রোন হামলা এবং ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুমকির পর এ দাম বাড়ল। চলতি মাসে এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলেও আভাস দিয়েছেন জ্বালানি অর্থনীতিবিদরা। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সহসাই দেশের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। অন্তত আগামী ছয় মাস তেলের সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। আমদানি খরচ কিছুটা বাড়লেও খুচরাপর্যায়ে তার প্রভাবও শিগগিরই পড়বে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারদর বাড়তে থাকলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটতে পারে। সিএনএন জানায়, গতকাল তেলের আন্তর্জাতিক বাজারদর গড়ে অন্তত ১৮ শতাংশ বেড়েছে। আর নিউ ইয়র্কভিত্তিক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানোয় এর দাম লাফিয়ে ৬০ দশমিক ৭১ ডলারে পৌঁছেছে। এটি গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে লন্ডনভিত্তিক ব্রেন্ট ক্রুড সংস্থায় তেলের দাম ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ৬৭ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি তেলের বাজার বিশ্লেষক জেফ্রি হ্যালি কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে সপ্তাহের শুরুতেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিতে বড়োসড়ো ধাক্কা লাগলেও চলতি সপ্তাহ জুড়েই তেলের দাম আরো বাড়ার শঙ্কা থেকে যাচ্ছে।’
বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক ও অপারেশন) মো. আবু হানিফ গতকাল সোমবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি মাসে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড তেল আমদানি করে। সৌদি আরব এবং আবুধাবি থেকে পালটাপালটি করে চালানগুলো আনা হয়। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের এলসি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নভেম্বরেরটিও কয়েক দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। আর সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকো তেল সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।’ তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ প্রতি চার দিন পরপর ৩০ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত তেল আমদানি করে। এ তেলের মধ্যে রয়েছে ডিজেল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল এবং জেট ফুয়েল। ইতিমধ্যে আমাদের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আমদানি পাইপলাইনেও তেল রয়েছে। আগামী ছয় মাসেও সৌদি আরব থেকে তেল না এলেও সমস্যা হবে না। বিকল্প ব্যবস্থা দামবৃদ্ধির শঙ্কা আপাতত নেই।