সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতির মহামারি চলছে :ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতির মহামারি চলছে। ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বের করে দিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) স্বীকার করেছে যে, করাপশন চলছে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে, হাজার চেষ্টা করেও থলের বিড়াল ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। কালো বিড়ালের মতো বের হয়ে আসছে যা জনগণের কাছে পুরোপুরি চলে গেছে।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। মিজানুর রহমানের (বীর প্রতীক) সভাপতিত্বে এবং সাদেক খানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা প্রমুখ।

ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুষ চাওয়ার অপরাধে ছাত্রলীগের যে দুই শীর্ষ নেতাকে পদচ্যুত করা হয়েছে এটাকে আবার নতুন নাম দিয়েছেন তারা। কি দিয়েছে বলুন তো? ফেয়ার শেয়ার। ৫ থেকে ১০ শতাংশ ঘুষ নেওয়া হলো ফেয়ার শেয়ার। এই ফেয়ার শেয়ারের মধ্যে আবার এখন ভাইস-চ্যান্সেলরের নাম চলে এসেছে। উনি নাকি ইতিমধ্যে এক কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছেন। এই মুহূর্তে তার পদত্যাগ করা উচিত, না হলে অব্যাহতি দেওয়া উচিত’।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে, কারণ তিনি জনগণের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক। সরকারকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, কেন তাকে আটকে রেখেছেন? এত ভয় পান কেন? জেলে আটকে রেখে এই অবৈধ ভীত সরকার তাকে হত্যা করতে চায়।

আসামে নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা ভারত সরকারকে বিশ্বাস করতে চাই। কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন। ধিক্কার জানাই এই নতজানু পররাষ্ট্র নীতিকে, ধিক্কার জানাই এই মানসিকতাকে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের বক্তব্য তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের পুলিশ কমিশনার ভালো ভালো কথা বলেছেন। তার একটা কথা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে  হয়েছে, যদি কোনো থানার ওসি কোনো কাজ না করে এবং সেবার বিনিময়ে যদি কোনো অর্থ দাবি করে, তাহলে আমাদেরকে জানাবেন, আমরাই গিয়ে সেখানে বসব। মির্জা ফখরুল বলেন, ইটস এ রিকগনিশন অব দ্য করাপশন। ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বের করে দিয়ে তারা স্বীকার করেছেন যে—করাপশন চলছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের শেষ কথা হলো—বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, গণতন্ত্রের মুক্তি দিন। তা না হলে ইতিহাসের পাতায় যে পরিণতি লেখা আছে, সে পর্যন্তই বহন করার জন্য প্রস্তুত থাকুন। ফেরাউন পারেনি, নমরুদ পারেনি, হিটলার-মুসোলিনি পারেনি, আইয়ুব পারেনি, এরশাদ পারেনি, একাত্তরের পর আওয়ামী লীগও পারেনি, আপনারাও পারবেন না’।