পাবনায় ‘সিরিজ রেপের’ সত্যতা মিলেছে তদন্তে

পাবনায় পালা করে ধর্ষণ, থানায় অভিযোগ না নেওয়া, জোরপূর্বক থানার ভেতরে বিয়েসহ বেশ কিছু অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পাবনা জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। গত রবিবার রাতে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে পাবনার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে তদন্ত কমিটি ‘সিরিজ রেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত কমিটি আমলে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। পরবর্তী পদক্ষেপ সেখান থেকেই নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, গণমাধ্যমে বিষয়টি উঠে না এলে হয়তো এ ঘটনা আলোর মুখ দেখত না। গণমাধ্যমের কারণেই জেলা পুলিশের শক্তিশালী তদন্ত কমিটি ঘটনাটি খতিয়ে দেখেছে। ঘটনার সত্যতা মেলায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিক প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ নেওয়াজ। অপর দুই সদস্য হলেন পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবনে মিজান ও পাবনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু জাফর।

গত ২৯ আগস্ট রাতে পাবনা সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের তিন সন্তানের জননী একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদের সঙ্গে প্রেম করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান। এসময় রাসেলসহ তার অপর দুই বন্ধু তাকে এক বন্ধুর বাড়িতে আটকে রেখে পালা করে ধর্ষণ করে। ঘটনার পরদিন ধর্ষণের শিকার ঐ নারী স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ওরফে ঘন্টুর কাছে যান বিচার চাইতে। ঘন্টু ও তার কয়েক বন্ধু মিলে তারই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষে আটকে রেখে তিন দিন ধরে পালা করে ধর্ষণ করে। সেখান থেকে ঐ নারী পালিয়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে সব খুলে বলেন।